ইসলামিকদোয়া

১৯ বার বিসমিল্লাহ পড়লে কি হয়? বিসমিল্লাহ শরিফের ফজিলত ও আমল!!

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ সুপ্রিয় দর্শক মন্ডলী আশা করি আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের অশেষ মেহেরবানীতে আপনারা সবাই ভাল আছেন।রোম সম্রাট একবার খলীফাতুল মুসলিমীন হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহুর দরবারে তার মাথা ব্যথার কথা জানিয়ে প্রতিকারের জন্য আবেদন করেছিল। হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু তাকে একটি টুপি প্রেরণ করেছিলেন। যতক্ষণ যতক্ষণ এ টুপি মাথায় থাকতো ততক্ষণ মাথাব্যথা হতো না। কিন্তু যখনই মাথা থেকে টুপি সরানো হতো সঙ্গে সঙ্গে মাথা ব্যাথা শুরু হয়ে যেত। এ ঘটনায় সবাই বিস্মিত হয়।

অবশেষে টুপি খুলে এর কারণ অনুসন্ধান করে দেখা গেল যে ,তাতে শুধু একটি শব্দ লিপিবদ্ধ রয়েছে। আসুন সেই শব্দটি কি তা আজকে আমরা জানবো ইনশাল্লাহ। হযরত আবু হোরায়রা রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ তাকে লক্ষ্য করে এরশাদ করেন, হে আবু হোরায়রা তুমি যখন ওজু করবে, এইসব তো বলবে। তাহলে ফেরেশতাগণ তোমার শেষ না হওয়া পর্যন্ত তোমার জন্য পূর্ণ  লিখতে থাকবে।

তুমি যখন স্ত্রীর সঙ্গে মিলিত হবে তখন এই শব্দ বলবে তাহলে যতক্ষণ না তুমি পবিত্র হবে ততক্ষণ ফেরেশতাগণ তোমার জন্য পূর্ণ লিখতে থাকবে যদি মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তোমাদের কোন নেক সন্তান দান করেন তবে সেই সন্তানের এবং তার যদি বংশধারা চালু থাকে তবে যতকাল তা চালু থাকবে ততক্ষণ পর্যন্ত তাদের সবার নিঃশ্বাসের সংখ্যা পরিমাণ পূর্ণ তোমার আমলনামায় লেখা হতে থাকবে। সুবহানাল্লাহ। তুমি যখন কোন পশুর পিঠে চলবে তখন তুমি এইসব বলবে। তাহলে তার প্রতি কদমে তোমার জন্য পূর্ণ লেখা হবে।

আর যখন নৌকায় চড়বে তখনও এই শব্দ বলবে, তাহলে যতক্ষণ না তুমি তার থেকে নামবে ততক্ষণ পর্যন্ত তোমার জন্য পূর্ণ লেখা হবে। আল্লাহু আকবার এই মহিমান্বিত বাক্যটি হচ্ছে “বিসমিল্লাহ”।

আমরা অনেকেই জানিনা এই সংক্ষিপ্ত বাক্যটির মধ্যে কত রহমত বরকত মাগফিরাত লুকিয়ে আছে। বিসমিল্লাহ মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের নামে শুরু করছি। ইনশাআল্লাহ আল্লাহ রাব্বুল আলামিন যেন আমাদের বেশী বেশী আমল করার তৌফিক দান করুন। যে কোন কাজের শুরুতে বিসমিল্লাহ বলবেন। আমরা অনেকেই জানি বলে এই আমলটি যথাযথ কদর করছি না। অথচ বিসমিল্লাহ আল্লাহর নামে এই আমল টির মধ্যে কত ফজিলত লুকিয়ে আছে।

এরশাদ হয় বিসমিল্লাহ শরীফ এর মধ্যে 19 টি হরফ আছে।  এই 19 টি হরফের বিশেষত্ব এই যে, দিবা রাতে মোট 24 ঘন্টা, 5 ঘন্টা  পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের জন্য আর বাকি 19 ঘণ্টা মানুষের কাজকর্ম চলাফেরা পানাহার ও নিদ্রায় কাটানোর জন্য। আল্লাহতালা ওই সময়ের মধ্যে ইবাদতের জন্য বিসমিল্লাহ কে নির্দিষ্ট করেছেন। সুবাহানাল্লাহ।

এই বিসমিল্লাহ শরীফের বরকতে মানুষ বিপদ-আপদ থেকে বেঁচে থাকে সুতরাং প্রত্যেক ঘন্টায় হাজার 900 বার করে বিসমিল্লাহ পাঠ করা উচিত। যখন বিসমিল্লাহ অবতীর্ণ হয়, তখন তার মর্যাদা ও মহানুভবতার  ভয়ে পাহাড় পর্বত কম্পমান হতে থাকে। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু বলেন, যে ব্যক্তি দুর্যোগ রক্ষী 19 জন ফেরেশতার আজাব থেকে মুক্তি পেতে চায়, তার কর্তব্য অধিক সংখ্যক বার বিসমিল্লাহ পড়া।

কারণ বিসমিল্লাহ 19 টি বর্ণ, এক একটি টি বর্ণ পাঠের বরকতে এক একজন জন ফেরেশতার কঠোর আযাব হতে মুক্তি পাওয়া যাবে। সুবাহানাল্লাহ। মহান আল্লাহ রব্বুল আলামীন আমাদের প্রত্যেকটি কাজের শুরুতে যেন বিসমিল্লাহ পাঠ করার তৌফিক দান করে দিন। আমিন।

আজ থেকে আমরা শপথ করি যে কোনো কাজের শুরুতেই আমরা বিসমিল্লাহ পরব । যখন পড়তে মনে না থাকে যখন মনে হয় তখন বিসমিল্লাহ পড়ে নিব এবং বেশি বেশি ইস্তেগফার করব। আল্লাহ রব্বুল আলামিন আমাদের প্রত্যেককে বেশি বেশি বিসমিল্লাহ পড়ার তৌফিক দান করুক।

আর হ্যাঁ, সেই রোমান সম্রাট এর  মুকুটেও সেই একটি বাক্য লেখা ছিল, তা হচ্ছে বিসমিল্লাহ। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের নামে শুরু করছি। শুধু এই বাক্যটির উসিলায় রোমান সম্রাট তার মাথাব্যথা থেকে রক্ষা পেয়েছিলেন ।আজও আমরা এই আমলটি কে বেশি বেশি করবো, আমাদের জীবন সুন্দর হয়ে যাবে। আল্লাহ আমাদের সকলকে বেশী বেশী আমল করার তৌফিক দান করুক আমিন

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button
Close