ইসলামিকশ্রেষ্ঠ মানুষ

হযরত ইব্রাহিম (আঃ) এর জীবনী প্রথম পর্ব ।। শ্রেষ্ঠ মানুষ ৮তম পর্ব ।।

নূহ (আঃ) থেকে ইব্রাহীম পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার বছরের ব্যবধান ছিল।হযরত সাহলি (আঃ)  এর প্রায় 200 বছর পরে ইব্রাহিম এর আগমন ঘটে। ঈশা থেকে ব্যবধান ছিল ১৭০০ বছর অথবা প্রায় ২হাজার বছরের।  ইব্রাহিম (আঃ) ছিলেন নবীগণের পিতা। এবং তার স্ত্রী সারা ছিলেন নবীগণের মাতা। স্ত্রী ছাড়ার পত্র হযরত ইসহাক এর পুত্র ইয়াকুব (আঃ)  এর বংশধর বনি ইসরাইল নামে পরিচিত । এবং হযরত হাজেরা পত্র হযরত ইসমাইল (আঃ) এর বংশে জন্ম নেয় হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম । যার অনুসারীগণ উম্মতে মুহাম্মদী  বা মুসলিম উম্মা নামে পরিচিত । ইব্রাহিম ইব্রাহিম (আঃ) কেনানে বা ফিলিস্তিন হিজরত করেন ।এটা হল বায়তুল মুকাদ্দাসের এলাকা । তারপর তারা হারানে বসবাস আরম্ভ করেন। হারান হল সেকালের  কাশদানি জাতির আবাসভূমি । জাসিরা এবং শ্যাম্ ও এর অন্তর্ভুক্ত।এখানকার অধিবাসীরা সাতটি নক্ষত্রের পূজা করত । সেই জাতির লোকেরা দামেস্কের শহর নির্মাণ করেছিল। তারা এই দ্বীনের অনুসারী ছিল । তারা উত্তর মেরুর দিকে মুখ করে বিভিন্ন ধরনের ক্রিয়া-কলাপ বা  মন্ত্রের দ্বারা সাতটি তারকার পূজা করত। সে সময় ভূপৃষ্ঠের উপর যত লোক ছিল তাদের মধ্যে শুধু ইব্রাহিম (আঃ) এবং তার স্ত্রী সারা ও বাতিজা লোত (আঃ) ব্যতীত সবাই ছিল কাফির। আল্লাহ তাআলা হযরত ইব্রাহিম (আঃ) এর দ্বারা সেসব দুষ্কৃতী ও ভ্রান্তি দূর করেন ।

কেননা আল্লাহ তাকে বাল্যকালেই সঠিক পথের সন্ধান দেন। রাসূল হওয়ার গৌরব দান করেন এবং বৃদ্ধ বয়সে খলিল বা বন্ধুরূপে গ্রহণ করেন। যেমনটা আল্লাহ তা’আলা বলেন ।

“ আমিতো ইতিপূর্বে ইব্রাহিমকে সৎপথের জ্ঞান দিয়েছিলাম। এবং আমি তার সম্বন্ধে ছিলাম সম্যক পরিজ্ঞাত “

অর্থাৎ তিনি এর যোগ্য ছিলেন হযরত ইব্রাহিম (আঃ)  সর্বপ্রথম আপন পিতা কে ঈমানের দাওয়াত দেন। তার পিতা ছিল মূর্তিপূজারী, কাজেই কল্যাণের দিকে আহবান পাওয়ার অধিকার সবচেয়ে বেশি।

আল্লাহ তা’আলা বলেন। “ স্মরণ করো, ওই কিতাবে উল্লেখ কি তোমার কথা; সে ছিল সত্যনিষ্ঠ নবী “

যখন সে তার পিতাকে বলল হে পিতা তুমি কেন তার ইবাদত করো যে শোনে না, দেখে না এবং তোমার কোন কাজেই আসে না? হে আমার পিতা আমার নিকট এসেছে জ্ঞান যা তোমার নিকট আসেনি । সুতরাং আমার অনুসরণ করো আমি তোমাকে সঠিক পথ দেখাবো । হে আমার পিতা শয়তানের এবাদত করো না। শয়তান তো  দয়াময়ের অবাধ্য,হে আমার পিতা আমি আশঙ্কা করছ, তোমাকে দয়াময়ের শাস্তি স্পর্শ করবে এবং তুমি শয়তানের বন্ধু হয়ে পড়বে। পিতা বলল; ইব্রাহিম তুমি কি আমার দেব দেবী হতে বিমুখ? যদি তুমি নিবৃত্ত না হও তবে আমি পাথরের আঘাতে তোমার প্রাণনাশ করব।তুমি চিরদিনের জন্য আমার নিকট হতে দূর হয়ে যাও। ইব্রাহীম বললো; তোমার প্রতি সালাম, আমি আমার প্রতিপালকের নিকট তোমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করব, তিনি আমার প্রতি অনুগ্রহশীল ।  আমি তোমাদের হতে ও তোমরা আল্লাহ ব্যতীত যাদের এবাদত তাদের হতে পৃথক হচ্ছি।

আমি আমার প্রতিপালক কে আহবান করি, আশা করি আমি আমার প্রতিপালক কে আহবান করে আমি ব্যর্থ কাম হবোনা । আল্লাহ তাআলা বলেনঃ ইব্রাহিম তার পিতার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেছিল । তাকে তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বলে, অতঃপর যখন এটা তার নিকট সুস্পষ্ট হয়ে গেল যে সে আল্লাহর  শত্রু ।তখন ইব্রাহীম তার সম্পর্ক ছিন্ন করল ।ইব্রাহিম তো কোমল হৃদয় ও সহনশীল । ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আবু হোরায়রা (রা) সূত্রে বর্ণনা করেন যে,রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন। কেয়ামতের দিন হযরত ইব্রাহিম (আঃ) এর সাথে তার পিতা আযরের সাক্ষাৎ হবে আযরের চেহারা মলিন ও কালিমালিপ্ত’ দেখে হযরত ইব্রাহিম (আঃ) বলবেন আমি কি আপনাকে দুনিয়ায় বলিনি যে আমার অবাধ্য হবে না। পিতা বলবে আজ আর আমি তোমার অবাধ্য হবো না। তখন হযরত ইব্রাহিম (আঃ)  বলবেন হে আমার প্রতিপালক আপনি আমাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে পুনরুত্থান দিবসে আমাকে লাঞ্ছিত করবেন না। কিন্তু আমার পিতা যেখানে আপনার দয়া ও ক্ষমা থেকে দূরে থাকছে। সেখানে এর চেয়ে অধিক লাঞ্ছনা আর কি হতে পারে? আল্লাহ বলবেন আমি কাফিরদের উপর জান্নাত হারাম করে দিয়েছি । তারপর বলা হবে ইব্রাহিম, তোমার পায়ের নিচে কি? নিচের দিকে তাকিয়ে তিনি দেখবেন একটি জবাইকৃত পশুর রক্ত বা রক্তাপ্রত অবস্থায় পড়ে আছে । তারপর পশুটির পা গোলু ধরে তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে ।আল্লাহ তাআলা বলেন আমি এরূপ ভাবেই ইব্রাহীমকে নভোমন্ডল ও ভুমন্ডলের অত্যাশ্চর্য বস্তুসমূহ দেখাতে লাগলাম ।যাতে সে দৃঢ়বিশ্বাসী  হয়ে যায় অনন্তর যখন রজনীর অন্ধকার তার উপর সমাছন্ন হলো,তখন সে একটি তারকা দেখতে পেল।

বলল ইহা আমার প্রতিপালক, অতঃপর যখন তা অস্তমিত হল তখন বলল আমি অস্তগামীদেরকে ভালোবাসি না।অতঃপর যখন চন্দ্রকে ঝলমল করতে দেখল বলল এটি আমার প্রতিপালক। অনন্তর যখন তা অদৃশ্য হয়ে গেল তখন বলল যদি আমার প্রতিপালক আমাকে পথ-প্রদর্শন না করেন তবে অবশ্যই আমি বিভ্রান্ত সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাব। অতঃপর যখন সূর্যকে চকচক করতে দেখল বললঃ এটি আমার পালনকর্তা একটি বৃহৎ। অতঃপর যখন তার ডুবে গেল তখন বলল হে আমার সম্প্রদায় তোমরা যেসব বিষয়কে শরিক কর, আমি ওসব থেকে মুক্ত। আমি এক মুখী হয়ে স্বীয় আনন ঐ সত্তার দিকে করেছি। যিনি নভোমন্ডল ও ভুমন্ডল সৃষ্টি করেছেন এবং আমি মুশরেক নই ।  তার সাথে তার সম্প্রদায় বিতর্ক করল। সে বলল তোমরা কি আমার সাথে আল্লাহর একত্ববাদ সম্পর্কে বিতর্ক করছ। অথচ তিনি আমাকে পথ প্রদর্শন করেছেন। তোমরা যাদেরকে শরিক করো আমি তাদেরকে ভয় করিনা। তবে আমার পালনকর্তা যদি কোন কষ্ট দিতে চান আমার পালনকর্তাই প্রত্যেক বস্তুকে স্বীয় জ্ঞান দ্বারা বেষ্টন করে আছে। তোমরা কি চিন্তা করো না? যাদেরকে তোমরা আল্লাহর সাথে শরীক করে রেখেছ তাদেরকে কিরূপ ভয় করো। অথচ তোমরা ভয় করো না যে তোমরা আল্লাহর সাথে এমন বস্তুকে শরীক করছ ।

যাদের সম্পর্কে আল্লাহ তোমাদের প্রতি কোন প্রমাণ অবতীর্ণ করেননি। অতএব  উভয় সম্প্রদায়ের মধ্যে শান্তি লাভের অধিক যোগ্য কে। যদি তোমরা জ্ঞানী হয়ে থাকো। যারা ঈমান আনে এবং স্বীয় বিশ্বাসকে শিরকের সাথে মিশ্রিত করে না, তাদের জন্য শান্তি এবং তারাই সুপথগামী। এটি ছিল আমার যুক্তি যা আমি ইব্রাহিমকে তার সম্প্রদায়ের বিপক্ষে প্রদান করেছিলাম আমি যাকে ইচ্ছা মর্যাদার সমুন্নত করি, আপনার পালনকর্তা প্রজ্ঞাময় মহাজ্ঞানী।   এখানে হযরত ইব্রাহিম (আঃ) ও তাঁর সম্প্রদায়ের মধ্যে সৃষ্ট বিতরকের কথা বলা হয়েছে। তিনি যুক্তি দেখিয়েছেন যে এসব উজ্জ্বল নক্ষত্র মূলত জ্ড় পদার্থ যা কখনো হতে পারে না।আর আল্লাহর সাথে শরীক করে এসবের পুজো করা যেতে পারে না । কেননা এটা সৃষ্ট প্রতিপালক ও নিয়ন্ত্রিত এরা উদ্রিত হয় ও অস্ত যায় এবং অদৃশ্য হতে পারেনা। পক্ষান্তরে মহান প্রতিপালক আল্লাহ, যার থেকে কোন কিছুই অদৃশ্য হতে পারে না। কিছুই তার দৃষ্টি থেকে গোপন থাকতে পারেনা বরং তিনি সর্বদা সর্বত্র বিদ্যমান।  তার কোন ক্ষয় ও পতন নেই। তিনি ব্যতীত আর কোন ইলাহ নেই । তিনি ব্যতীত আর কোন প্রতিপালক নেই । এভাবেই হযরত ইব্রাহিম (আঃ) সর্বপ্রথম নক্ষত্রের ইলাহ হওয়ার অযোগ্যতা বর্ণনা করেন। এখানে নক্ষত্র বলতে জোহরা সেতারা তথা শুক্র গ্রহ কে বোঝানো হয়েছে। যা অন্য সকল নক্ষত্রের চেয়ে অধিক উজ্জ্বল হয় । একারণেই পরবর্তীতে তিনি আরও অগ্রসর হয়ে চন্দ্রের উল্লেখ করেন । যা নক্ষত্রের চেয়েও অধিক উজ্জ্বল ও ঝলমলে। এরপর আরো উপরের দিকে লক্ষ করে সূর্য কে উল্লেখ করেন, যার অবয়ব সর্ববৃহৎ এবং যার উজ্জ্বলতা ও আলোক বিকিরণ তীব্রতর। এভাবেই ইব্রাহিম আলাই সালাম স্পষ্টভাবে বুঝলেন যে, সূর্য ও নিয়ন্ত্রিত ও অধীনস্থ অন্যের নির্দেশ পালনে বাধ্য।

আল্লাহ তায়ালা বলেন  তার নির্দেশ সমূহের মধ্যে রয়েছে রাত ও দিন । তোমরা সূর্যকে সেজদা করো না চন্দ্র কেউ নয়, বরং সিজদা করে আল্লাহকে যিনি এগুলো সৃষ্টি করেছেন।  যদি তোমরা কেবল তার ইবাদত করো।

নক্ষত্র সম্পর্কে হযরত ইব্রাহিম (আঃ)  এর উপদেশ বাণী থেকে স্পষ্টত বুঝা যায় যে, এসব কথা তিনি হারানের অধিবাসীদের লক্ষ করে বলেছিলেন। কেননা তারা নক্ষত্র পূজা করত। অপরদিকে   বাবেল বাঁসিরা ছিল মূর্তিপূজক ।হযরত ইব্রাহিম (আঃ)তাদের সাথে বিতর্কে লিপ্ত হন, মূর্তি ভাঙ্গেন, অপদস্ত করেন এবং সেগুলোর যে কোনো ক্ষমতা নেই সেই সম্পর্কে বর্ণনা দেন । হযরত ইব্রাহিম (আঃ)এর সম্প্রদায়ের  লোকজন শহরের উপকন্ঠে তাদের একটি নির্ধারিত বার্ষিক মেলায় মিলিত হতো।হযরত ইব্রাহিম (আঃ) পিতা তাকে মেলায় যাওয়ার জন্য আহ্বান জানালেন,হযরত ইব্রাহিম (আঃ) বলেন আমি অসুস্থ। এরপর সম্প্রদায়ের লোকজন যখন মেলায় চলে যায়,হযরত ইব্রাহিম (আঃ) শহরে থেকে যান, এবং তখন তিনি চুপিসারে দ্রুতপদে  দেবতাদের দিকে অগ্রসর হলেন। তিনি দেখতে পান যে, মূর্তিগুলো একটি বিরাট ঘরের মধ্যে রয়েছে এবং তাদের সম্মুখে বিভিন্ন প্রকারের খাদ্যদ্রব্য সাজিয়ে রাখা হয়েছে। এইসব দেখে তিনি উপহাস ছলে বলেনঃ তোমরা খাচ্ছ না কেন? কি হলো তোমাদের কথা বলছো না কেন? তারপর সে তাদের উপর কুঠার দিয়ে প্রচন্ড আঘাত চালান। ইব্রাহিম  মূর্তিগুলোকে টুকরো টুকরো করে দিল অর্থাৎ সবগুলোকে তিনি ভেঙে চুরমার করে দিলেন।হযরত ইব্রাহিম (আঃ) তার কুঠার খানা বড় মূর্তির হাতে ঝুলিয়ে রেখে দেন। এই ছিল যে তারা যেন মনে করে যে তার সাথে ছোট মূর্তিগুলো পূজিত হওয়ার কারণে ওটাই ছোট গুলোর উপর ঈর্ষাবশত আক্রমণ করেছে ।

তারপর মেলা থেকে ফিরে এসে লোকজন তাদের উপাস্যদের এ অবস্থা যখন দেখলেন ।  তখন তারা বলল আমাদের উপাস্যদের সাথে এরূপ ব্যবহার কে করল। সে তো নিশ্চয়ই কোন জালিম। এ কথার মধ্যে তাদের জন্য সুস্পষ্ট প্রমাণ ছিল যদি তারা বুঝতে চেষ্টা করতো কেননা তারা যেসব দেব-দেবীর উপাসনা করে তারা যদি সত্য  উপাস্য হত তাহলে যে তাদের কে আক্রমণ করেছে তাকে তারা বাধা দিত। কিন্তু নিজেদের মূর্খতা নির্বুদ্ধিতা ও পথভ্রষ্টতার কারণে তারা বলল।আমাদের উপাস্যদের সাথে এরূপ ব্যবহার কে করল ? সে ত নিশ্চয়ই কোন জালিম। কয়েকজন লোক বলল আমরা এক যুবককে তাদের সম্পর্কে বিরূপ আলোচনা করতে শুনেছি । ইব্রাহিম বলা হয় অর্থাৎ এদের দোষ ত্রুটি বর্ণনা করত, এদের নিয়ে সমালোচনা করত। সুতরাং সেই এসে এদেরকে ভেঙেছে। তারপর তারা বলল তাকে জনসমক্ষে উপস্থিত কর যাতে তারা দেখতে পায় । অর্থাৎ উপস্থিত জনতার মাঝে নেতৃবৃন্দের সম্মুখে তাকে হাজির করো । যাতে জনগণ তার বক্তব্য প্রদানকালে উপস্থিত থাকে। এবং তার কথা শুনতে পারে এবং তাকে যে  বলদা স্বরূপ যে শাস্তি দেয়া হবে তা প্রত্যক্ষ করতে পারে। এটাই ছিল হযরত ইব্রাহিম (আঃ) উদ্দেশ্য যে সকল মানুষ উপস্থিত হলে তিনি সমস্ত মূর্তিপূজারী সম্মুখে তাদের ধর্ম-কর্মের ভ্রান্তির প্রমাণ পেশ করবেন। তারপর যখন জমায়েত হলো এবং হযরত ইব্রাহিম (আঃ) কে সেখানে হাজির করা হলো, তখন তারা বলল হে ইব্রাহীম আমাদের দেব দেবীর সাথে এই কাণ্ড ঘটিয়েছে? সে বলল এদের এই বড়টা এ কাজ করেছে । অবশ্য কথাটাকেই তিনি একটু ঘুরিয়ে বলেছেন। মসজিদের কাছে জিজ্ঞেস করো যদি ওরা কথা বলতে পারে, তারপর তারা মাথা নত করে ঝুঁকে রইল।

এবং তারা বলল হে ইব্রাহীম তোমার তো জানা আছে যে এরা কথা বলে না। সুতরাং এদের জিজ্ঞেস করার জন্য তুমি কেন বলছ? এ সময় ইব্রাহিম আলাই সাল্লাম বলেন তোমরা কি আল্লাহ ব্যতীত এমন বস্তুর পূজা করো যারা তোমাদের কোন উপকার করতে পারে । না কোন ক্ষতি করতে পারে। দিক তোমাদের জন্য এবং তোমাদের উপাস্যদের জন্য । যাদেরকে তোমরা পূজা কর আল্লাহ ব্যতীত এরপর তারা ইব্রাহিমের দিকে তেড়ে আসলো। তারা বলল এর জন্য এক ইমারত তৈরী করো তারপরে জ্বলন্ত আগুনে নিক্ষেপ করো ।

আল্লাহ তায়ালা বলেন তারা ইব্রাহীমের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করেছিল। কিন্তু আমি তাদেরকে অতিশয় করে দিলাম। হযরত ইব্রাহিম (আঃ) এর সাথে তারা যখন যুক্তিতর্কে এঁটে উঠতে পারল না তাদের পক্ষে  পেশ করার মতো কোনো প্রমাণ থাকলো না তখন তারা বিতরকের পথ এড়িয়ে শক্তি ও ক্ষমতা প্রয়োগের পথ অবলম্বন করে। যাতে করে নিজেদের নির্বুদ্ধিতা ও হৎকারিতা টিকিয়ে রাখতে পারে। সুতরাং আল্লাহ সুবহানাহু তা’আলা ও তাদের চক্রান্তকে ব্যর্থ করে দেওয়ার কৌশল গ্রহণ করলেন । আল্লাহ বলেন তারা বলল ইব্রাহীমকে পুড়িয়ে দাও এবং তোমাদের দেবতাদেরকে সাহায্য করো। যদি তোমরা কিছু করতে চাও আমি আল্লাহ বললাম হে আগুন  তুমি ইব্রাহিমের জন্য শীতল ও নিরাপদ হয়ে যাও । তারা ইব্রাহীমের ক্ষতিসাধন করতে চেয়েছিল কিন্তু তাদেরকে করে দিলাম সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্ত।

তারা বিভিন্ন স্থান থেকে সম্ভাব্য চেষ্টার মাধ্যমে জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করতে থাকে। দীর্ঘদিন পর্যন্ত তারা এ সংগ্রহের  কাজে রত থাকে। তাদের মধ্যে কোন মহিলা রোগে আক্রান্ত হলে মানত করতো যে, যদি সে আরোগ্য লাভ করে তবে হযরত ইব্রাহিম (আঃ) কে  পুড়াবার লাকড়ি সংগ্রহ করে দেবে।এরপর তারা বিরাট এক গর্ত তৈরি করে তার মধ্যে লাকড়ি নিক্ষেপ করে অগ্নিসংযোগ করে। ফলে তীব্র দহনে প্রজ্বলিত অগ্নিশিখা উঠতে থাকে যার কোন তুলনা হয় না । তারপর হযরত ইব্রাহিম (আঃ) কে মিনজানিক নামক নিক্ষেপণ যন্ত্র বসিয়ে দেয় । এই যন্ত্রটি  কুদী সম্প্রদায়ের হাজার নামক এক ব্যক্তি তৈরি করেছে ।মিনজানিক যন্ত্র সেই সর্বপ্রথম আবিষ্কার করেন । আল্লাহ তাকে মাটির মধ্যে বসিয়ে দেয়। কেয়ামত পর্যন্ত সে মাটির মধ্যে তলিয়ে যেতে থাকবে । তারপর তারা হযরত ইব্রাহিম (আঃ) কে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে টেনে হেঁচড়ে নিয়ে যেতে থাকে।  যখন আগুনে নিক্ষেপ করা হয় ।তখন হযরত ইব্রাহিম (আঃ) বলেন আমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট তিনিই উত্তম অভিভাবক । তারপর আল্লাহ তাআলা নির্দেশ করলেন । হে আগুন তুমি ইব্রাহীমের উপর শীতল ও শান্তিদায়ক হয়ে যাও। মিনহাল ইবনে ওমর (রা) বর্ণনা করেছেন । হরযত হযরত ইব্রাহিম (আঃ) আগুনের মধ্যে ৪০ কিংবা ৫০ দিন অবস্থান করেন ।এই সময় সম্পর্কে হযরত ইব্রাহিম (আঃ)  বলেন আগুনের মধ্যে আমি যতদিন ছিলাম ততদিন এমন শান্তি ও আরামের জীবন আমি কখনো উপভোগ করিনি । এভাবে হযরত ইব্রাহিম (আঃ) সম্প্রদায় শত্রুতাবসত প্রতিশোধ নিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তারা ব্যর্থ কাম হল, তারা গৌরব অর্জন করতে চেয়েছিল কিন্তু লাঞ্চিত হল। তারা বিজয়ী হতে চেয়েছিল কিন্তু পরাজিত হল।

আল্লাহর বাণী তারা চক্রান্ত করে ক্ষতি করতে চেয়েছিল কিন্তু আমি তাদেরকে অধিকতর ক্ষতিগ্রস্ত করে দেই। জাহান্নাম হল তাদের জন্য নির্দিষ্ট  আবাসন ঠিকানা।

ইমাম আহমদ (র) আয়েশা (রাঃ)সূত্রে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম বলেছেন তোমরা গিরগিটি হত্যা করো। কারণ সে হযরত ইব্রাহিম (আঃ)  এর বিরুদ্ধে আগুনে সুখ দিয়েছিল । তাই আয়েশা (রাঃ) গিরগিটি হত্যা করতেন।

 

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button
Close