ইসলামিকজীবন - মৃত্যু - জীবন

সর্ববৃহৎ শাফাআত এবং হিসাব (জীবন – মৃত্যু – জীবন: পর্ব ৬)

বিচার দিবসের দৈর্ঘ্য 50 হাজার বছরের সমান। আগের আলোচনায় বলা হয়েছে সেদিন সময় একেক মানুষের জন্য একেক গতিতে চলবে। বর্তমান জীবনেও এর একটা আচ পাওয়া যায় ,আনন্দময় সময় গুলো মনে হয় চোখের পলকেই পার হয়ে গেল আর কষ্টের সময় গুলোকে মনে হয় খুব ধীরগতিতে চলছে। কেয়ামতের দিবসে এই পার্থক্যগুলো হয়ে যাবে বহুগুণে বেশি।

আপনি দাঁড়িয়ে আছেন হাশরের ময়দানে এবং সবাই অপেক্ষা করছে বিচার দিবস শুরু হওয়ার জন্য কিন্তু তা হচ্ছে না। এই দাঁড়িয়ে থাকাকেই অনেকের কাছে তাদের গোটা অস্তিত্বের সবচেয়ে বড় শাস্তি মনে হতে পারে। যারা আল্লাহকে অবিশ্বাস করেছিল এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অস্বীকার করেছিল তারাও আর দাঁড়িয়ে থাকতে চাচ্ছে না ।যদিও তারা অনুধাবন করতে পারছে তাদের জন্য জাহান্নাম অপেক্ষা করছে ।তারপরও তারা চাচ্ছে আল্লাহ যেন বিচারপ্রক্রিয়া শুরু করে দেয় এরপর যা হবার হবে। কিন্তু এভাবে দাঁড়িয়ে থাকা আর সম্ভব হচ্ছে না।

মানব জাতি জিন জাতি সৃষ্টি একত্র হয়ে ছুটে যায় আল্লাহর সৃষ্টি করা প্রথম মানুষটির কাছে,আদম (আঃ) এর কাছে। আদম (আঃ)এর কাছে জড়ো হয়ে বলে হে আমার পিতা আল্লাহ আপনাকে নিজ হাতে সৃষ্টি করেছেন আপনি আল্লাহর কাছে শাফায়াত করুন সুপারিশ করুন আল্লাহ যেন বিচার প্রক্রিয়া শুরু করে দেয়। আপনি নিজেই সেই ভিড়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছেন তবুও চমকে না গিয়ে পারলেন না। দুনিয়ার জীবনে হাজার হাজার বছর ধরে বিভক্ত হওয়া সেই মানুষ আজ এক হয়ে গেছে।

একই সুরে একই সাথে সবাই একটাই দাবি করছে তারা জান্নাত চাইছে না জাহান্নাম চাইছে না তারা শুধু এই কঠিন নির্মমতা থেকে মুক্তি পেতে চাইছে। এই অসহনীয় অপেক্ষার অবসান আপনার কাছে যদিও মনে হচ্ছে সবকিছু তাড়াতাড়ি আগাচ্ছে কিন্তু আপনি বুঝতে পারেন অনেকের কাছে হয়তোবা মনে হচ্ছে তারা হাজার হাজার বছর ধরে দাঁড়িয়ে আছেন । আদম (আঃ) সকলের আবেদন শুনলেন প্রত্যেকটি মানুষই তার সন্তান নিজ সন্তানদের আকুল আবেদন শোনার পরেও তিনি রাজি হতে পারলেন না। তিনি বহু বছর আগে তাঁর করা একটি ভুলের কথা চিন্তা করছিলেন। যে ভুলের কারণে তিনি জান্নাত থেকে বহিষ্কৃত হয়েছিলেন এমনকি সে ভুলের শাস্তি তিনি পেয়েছেন ।কিন্তু তিনি জানেন আজ বিচার দিবসে আল্লাহ অত্যন্ত রেগে আছেন।

তাই তিনি তার একটি ভুল নিয়ে এত চিন্তিত যে তিনি তার সন্তানদের ফিরিয়ে দিয়ে বললেন আমি এ কাজ করতে পারবো না তোমরা অন্যজনের কাছে যাও তোমরা নূহ এর কাছে যাও। গোটা মানবজাতির তখন নুহ আলাই সাল্লাম কে খুঁজে বের করেন ।তার কাছে গিয়ে সবাই একই আবদার করে আল্লাহর কাছে যেন তিনি একটু সুপারিশ করেন বিচার প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য। কিন্তু আদম আলাই সালাম এর মত নুহ আলাই সাল্লাম ও তার পরিণতি নিয়ে এতটাই উদ্বিগ্ন যে তিনি তাদের ফিরিয়ে দিলেন।এভাবে করে গোটা সৃষ্টি  এক নবীর থেকে আরেক নবীর কাছে যেতে থাকে এবং একই অনুরোধ করতে থাকে কোন নবী বা থাকেনা ।

ইব্রাহিম আলাই সালাম মুসা আলাই সালাম ঈসা আলাই সালাম ও তাদের ফিরিয়ে দিলেন ।

অবশেষে সৃষ্টির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রতিটি মানুষ ও জিন জ্বরো হয় মহাবিশ্বের জন্য রহমত হিসেবে প্রেরিত মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে। তার কাছে গিয়ে সবাই মিলে অনুরোধ করতে থাকে ।হে আল্লাহর হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর প্রেরিত শেষ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের এই সংকট থেকে আপনি উদ্ধার করুন। আল্লাহর কাছে শাফায়াত করুন সুপারিশ করুন আল্লাহ যেন বিচারপ্রক্রিয়া আরম্ভ করে দেয়। সূর্যের আলোয় উজ্জ্বল মুখ মণ্ডলটির দিকে আর একটিবার আপনার তাকানোর সৌভাগ্য হলো।

তার দিকে তাকিয়ে এই মনের মধ্যে এক ধরনের স্বস্তি এসে পরল ।মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সবার দিকে তাকালেন এবং সবাইকে আশ্বস্ত করলেন এবং তার অন্তর জুড়ানো কন্ঠে বললেন এটা আমারই কাজ এটা আমারই কাজ ।এটাই হচ্ছে সেই মাকামে মাহমুদ সেই প্রশংসিত স্থান যা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেওয়ার অঙ্গীকার করা হয়েছিল। যখন গোটা সৃষ্টি বিচার দিবসের সেই চরম সংকটময় অবস্থায় থাকবে ।একমাত্র তারই অনুমতি থাকবে পুরো মানবজাতির ও জিন জাতির হয়ে আল্লাহর কাছে শাফায়াত করার বা সুপারিশ করার।

রাসুল সাঃ চলে যান আল্লাহর আরশ এর সামনে এবং সেখানে সেজদায় মাথা নত করলেন এবং আল্লাহকে এমন নামে এবং এমন ভাষায় প্রশংসা করা শুরু করলেন যা আগে কখনো নাযিল করা হয়নি। তিনি তার রবকে ডাকছেন মানবজাতির জন্য তিনি তার অন্তরকে উজাড় করে রবকে ডাকছেন এবং এমনি করে কতটুকু সময় পার হয়ে গেল কারো হিসাব থাকলো না। কেয়ামতের শুরু থেকে আল্লাহ অত্যন্ত রেগে ছিলেন গোটা মানব জাতি ও জিন জাতি দুনিয়াতে বারবার তাকে অমান্য করেছে। তিনি বারবার তাদের ক্ষমা করেছেন তাদের আহ্বান করেছেন তবুও তারা বারবার আল্লাহর ডাক অগ্রাহ্য করে পৃথিবীতে দুর্নীতি করে গেছেন ।

হাজার হাজার বছর ধরে তার কুটিকুটি বান্দা এরূপ আচরণ করে গেছেন তার রাগ  আজ কল্পনার বাইরে। তিনি এতটাই নিরাশ যে মানব জাতির এমন সংকট পূর্ণ অবস্থাতেও তিনি একটি কথাও বলছেন না। এমন ভয়ঙ্কর পরিস্থিতিতেও তার হাবিব সাঃ মাটিতে কপাল ঠুকে যখন আল্লাহর প্রশংসা করতে থাকেন তাকে ব্যাকুল হয়ে ডাকতে থাকেন ।তার সৃষ্টি করা শ্রেষ্ঠ এই বান্দার প্রতি অবাদ ভালোবাসা  রহমতের টানে আল্লাহ রব্বুল আলামিন তার ডাকে সাড়া না দিয়ে থাকতে পারলেন না । তার প্রিয় বান্দার ডাক তিনি কি করে উপেক্ষা করেন ।তিনি নবীজী সাঃ কে উদ্দেশ করে বলেন ।

“হে মোহাম্মদ তোমার মাথা উঠাও এবং যা চাও তাই তোমাকে দেয়া হবে এবং সুপারিশ কবুল করা হবে “

কেয়ামতের দিবসে রাসুল সাঃ এর কয়েকটি শাফায়াতের কথা বর্ণনা করা আছে । কিন্তু শাফায়াতুল কোবরা  অর্থাৎ সবচেয়ে বড় শাফায়াত বলতে আমরা যেটা বুঝি তা হল এই সুপারিশ টি যার কারণে মহান আল্লাহতালা কেয়ামতের দিবসে বিচারকার্য শুরু করবেন ।আল্লাহ রাসুল সাঃ এর সুপারিশ গ্রহণ করলেন ।বিচার প্রক্রিয়া শুরু হতে যাচ্ছে ।হাশরের ময়দানে সবাই অপেক্ষা করতে থাকে মহাবিশ্বের  রব মহান আল্লাহ তা’আলার আগমনের জন্য।

“আকাশ ফুঁড়ে একটি মেঘমালা সেদিন উদয় হবে এবং ফেরেশতাদের দলে দলে নামিয়ে দেয়া হবে “

এক প্রকাণ্ড শব্দে আকাশমণ্ডলী উন্মুক্ত হয়ে যায় ।এক অলৌকিক মেঘ দেয়ে আসে এবং অগণিত ফেরেশতারা নেমে আসে।  সেই ফেরেশতারা সব মানুষদের কে ঘিরে জায়গা করে নেয় এবং একত্র হয়ে আল্লাহর প্রশংসা করতে থাকে। তার মাহাত্ম্য বর্ণনা করতে থাকে ।তাদের জিকিরের উদ্দীপনা দেখে সবাই জিজ্ঞেস করেন আল্লাহ কি এসে গেছেন? তারা বললেন না তিনি আসছেন। এরপর।

“ তোমার রব এমন অবস্থায় দেখা দেবেন, যখন ফেরেশতারা সারিবদ্ধ ভাবে দাঁড়িয়ে থাকবে “

অবশেষে স্বয়ং আল্লাহ তাআলা হাশরের ময়দানে উপস্থিত হন এবং তিনি কিভাবে আসেন এবং কতটুকু কাছে আসেন এসব বিষয়ে আমরা বিস্তারিত জানি না এমনকি তা কল্পনা করাও সম্ভব নয় ।কেননা তিনি তো সব ধরনের কল্পনার উড়দে ।কিন্তু তাঁর আগমনের ব্যাপারে কিছু তথ্য আমাদেরকে রাসুল সাঃ জানিয়েছেন বটে।যখন আকাশ মন্ডলী উন্মুক্ত হয়ে সারি সারি ফেরেশতারা নেমে আসবে এরপর আল্লাহর আরশ বহনকারী ফেরেশতা আল্লাহর আরশ বহন করে নেমে আসবে ।

“ফেরেশতারা সীমায় অবস্থান করবে সেদিন আট জন ফেরেশতা তাদের উপরে তোমাদের রবের আরশ বহন করবে “

সর্বমোট 8 জন ফেরেশতা সেদিন আল্লাহর আরশ বহন করবেন ।সেদিন সংখ্যাটাকে অল্প মনে হতে পারে। সেদিন কুটিকুটি ফেরেশতার মধ্য থেকে আল্লাহর আরশ শুধুমাত্র 8 জন ফেরেশতা বহন করবে ? কিন্তু বাস্তবে এই ফেরেশতারা অন্যদের মতো নয়। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের বর্ণনা করে বলেন আল্লাহর আরশ বহনকারী একজন ফেরেশতার আসছে সপ্তম জমিনে এবং মাথা হচ্ছে সপ্তম আসমানে। তার কানের লতি থেকে কাদের দূরত্ব পাড়ি দিতে একটি পাখিকে 700 বছর ভ্রমণ করতে হবে।

এমন একজন ফেরেশতা কল্পনা করাও আমাদের জন্য কঠিন। আমাদের আকাশের গ্রহ-নক্ষত্রের একত্র করলেও মনে হয় এমন একজন ফেরেশতা হবে না। এবার ভেবে দেখুন এমন প্রকাণ্ড রকমের আট জন ফেরেশতা আল্লাহর আরশ বহন করে হাশরের ময়দানে পৌঁছাবেন। আল্লাহর আগমনের পর এবার শুরু হবে হিসাব নেওয়ার পর্ব।

কেয়ামতের দিন হিসাব হবে তিন ধরনের ।প্রথম দলকে কোন ধরনের হিসাব এবং আজাব ছাড়াই জান্নাতে প্রবেশ করানো  হবে ।বোখারির হাদিসে বর্ণিত আছে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন তার উম্মত থেকে সত্তর হাজার মানুষ কোন প্রকার হিসাব ছাড়াই জান্নাতে প্রবেশ করবে। এবং তাদের মুখমন্ডল চাঁদের মত উজ্জ্বল হয়ে থাকবে। যদিও সত্তর হাজার শুনলে খুব বেশি সংখ্যা মনে হয় না ।কিন্তু সকল মুমিন ব্যক্তি দের জন্য সুখবর রয়েছে। তিরমিজি ও ইবনে মাজা  কিতাবে বর্ণিত আছে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেন আমার রব আমাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে আমার উম্মত থেকে সত্তর হাজার বান্দা সরাসরি জান্নাতে প্রবেশ করবে কোন প্রকার হিসাব বা আজাব ছাড়া এবং তাদের মধ্যে প্রতি 1000 বান্দার সাথে আরো 70 হাজার যোগ হবে। অর্থাৎ সবমিলিয়ে 49 লক্ষ মুমিন বান্দা সরাসরি জান্নাতে প্রবেশ করবে কোন প্রকার হিসাব ছাড়া। এবং শুধু তাই নয় এই হাদীসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেন এরপর আল্লাহতালা তিন  হাত মুঠো ভরে তার বান্দা সরাসরি জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। গেরবের আরশ এই মহাবিশ্ব থেকে অসংখ্য গুণে বড় সেই রবের হাত ভরপুর হলে কত অগণিত মুমিন বান্দা সরাসরি জান্নাতে প্রবেশ করবে তা আমাদের কল্পনার বাইরে।

আমরা শুধু এই আশাই করি আমরা প্রত্যেকে যেন সেই দলের অন্তর্ভুক্ত হয় ।পরম করুণাময় আল্লাহ যেন আমাদের দোয়া করেন এবং আমাদের কোন প্রকার হিসাব না নেন।

আমার ভাই এবং বোনেরা এই বিষয়ে আপনাদের কাছে বিশেষভাবে জোর দিতে চাই ।সেদিন লক্ষ-লক্ষ কুটি কুটি বান্দা হিসাব ছাড়া জান্নাতে প্রবেশ করবে ।এই বান্দাদের মধ্যে হয়তো অনেক ব্যভিচারী সুদখোর জালিম বান্দাও থাকবে। তারা তাদের ভুল বুঝতে পেরে আল্লাহর কাছে ফিরে এসেছিল বিশুদ্ধ অন্তর নিয়ে। আমাদের প্রত্যেকের পাপের সংখ্যা অজস্র এবং প্রত্যেকটি পাপ গুরুতর। কিন্তু আমরা যেন সেই পাপ গুলোর কারণে আল্লাহর কাছ থেকে চাইতে লজ্জা না পাই। কারণ আল্লাহর কাছ থেকে চাইতে লজ্জা করা মানে আল্লাহর ক্ষমা কে ছোট করে দেখা।  তার রহমত কে ছোট করে দেখা ।আমরা যেন এ কারণেই সেই শ্রেষ্ঠ দলের অন্তর্ভুক্ত হওয়া থেকে বঞ্চিত না হয় ।যে আমরা আল্লাহর ক্ষমার উপর হতাশ হয়ে সরাসরি জান্নাত লাভের প্রত্যাশাই করি নি।

আমরা যেন প্রত্যেক এই আল্লাহর কাছে শ্রেষ্ঠ এই দলটির অংশ হওয়ার জন্য দোয়া করি। আমি চোখের যিনা করে থাকলেও আমি সুদের চাকরি করে থাকলেও আমি মদ্যপান করে থাকলেও হয়তো এই দোয়ার কারণেই শীঘ্রই আমি এই পাপগুলো থেকে ফিরে আসতে পারবো। এবং সেদিন কোন প্রকার হিসাব কোন প্রকার আযাব ছাড়াই জান্নাতে প্রবেশ করতে পারব। আল্লাহ সুবান আল্লাহ তাআলা আমাদের প্রত্যেককে সে দলের অন্তর্ভুক্ত করুক আমিন ।সর্বোত্তম এই পরিণতির পর রয়েছে দুটি দল । একদল  লোকেদের জন্য রয়েছে সহজ হিসাব।

“ তার কাছ থেকে সহজ হিসাব নেয়া হবে “

তাদের জন্য রয়েছে সহজ হিসাব এবং এটাও হবে মুমিন বান্দাদের জন্য। কিন্তু সেই বান্দারা যারা হিসাব ছাড়া জান্নাতে প্রবেশ করা দলের মধ্যে ছিল না। এ দলের বান্দাকে আল্লাহ তার জ্ঞান তার নিয়ামত এবং তার কাজ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করবেন এবং সে সেগুলো কিভাবে কাজে লাগিয়ে ছিল তা জানতে চাইবেন। সে তখন বিভিন্ন ধরনের ভালো কাজের কথা উল্লেখ করতে পারবে ।এবং সে যত ভালো কাজের কথা উল্লেখ করতে থাকে সেই প্রশ্নোত্তর পর্ব তার জন্য ততো সহজ হতে থাকে। এবং সেই মুহূর্তে আল্লাহর রহমত তার উপর বর্ষিত হতে থাকে ।এরপর আল্লাহ তাকে আলাদা করে নিবেন এবং তার পাপ গুলো দেখাবেন ।তার পাপ গুলো দেখানোর পরে সে আল্লাহর সামনে অত্যন্ত লজ্জিত বোধ করবে ।তীব্র অনুশোচনা বোধ করবে ।কিন্তু এরপর আল্লাহ তার পাপগুলো ক্ষমা করে দিবেন। এবং সেই পাপ গুলো সম্পর্কে আর কেউ জানবে না ।এইজন্যেই ওলামারা বলে থাকেন কেউ গোপনে কোন পাপ কাজ করলে সে যেন প্রকাশ্যে তা বলে না বেড়ায়।

বরং তার পাপের জন্য গোপনে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে থাকে। ইনশাআল্লাহ কেয়ামতের দিনে আল্লাহ গোপনেই তার পাপগুলো ক্ষমা করে দিবেন। কিন্তু সে যদি তার পাপগুলো প্রকাশ্যে নিয়ে আসে তখন আল্লাহ তায়ালা অত্যন্ত রেগে যান ।এবং তা তার জন্য খারাপ পরিণতি বয়ে নিয়ে আসবে। হিসাব নেওয়ার সময় তৃতীয় দল হবে তারা যাদের কঠিন হিসাব নেয়া হবে ।এবং যাদের কঠিন হিসাব নেয়া হবে তারাই ধ্বংস ।বোখারি ও মুসলিম হাদিসে আছে রাসুল সাঃ আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বলেন ।হিসাবের সময় যারে খুটিনাটি হিসাব নেয়া শুরু হবে সেই সাজা প্রাপ্ত হবে ।

এই দলের ব্যক্তিদের তাদের জীবনের প্রতিটি কাজের জন্য প্রতিটি মুহূর্তের জন্য ছোট বড় প্রতিটি নেয়ামতের জন্য প্রশ্ন করা হবে এবং এ ধরনের লোকদের কোন উত্তর থাকবে না ।ভেবে দেখুন আমাদের যদি গত এক সপ্তাহের কর্মকাণ্ডের জন্য প্রতিটি সেকেন্ড আমরা কিভাবে ব্যয় করেছি প্রতিটি পয়সা আমরা কিভাবে আয় করেছি এবং তা কিসের পেছনে খরচ করেছি। প্রতিটি নেয়ামত পাওয়ার পর আমরা তা কিভাবে ব্যবহার করছি এই নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। হয়তো এই এক সপ্তাহের হিসাবেই আমাদের পরিণতি ভয়ঙ্কর হয়ে যাবে।

ভেবে দেখুন যে ব্যক্তিকে বালেক হওয়ার পর থেকে মৃত্যু পর্যন্ত প্রতিটি মুহূর্তের জন্য জবাবদিহিতা করতে হবে তার পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ হবে ।তাই আমরা প্রতিনিয়ত আল্লাহর কাছে দোয়া করি আমাদের যা প্রাপ্য তিনি যেন আমাদের কানা দেন। আমাদের যা প্রাপ্য তা আমরা পেলে তো ধ্বংস হয়ে যাব বরং তিনি যেন আমাদের প্রতি বিশেষ রহমত প্রদর্শন করেন ।যা ছাড়া আমরা কখনোই জান্নাত লাভ করতে পারবো না।

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button
Close