ইসলামিক

শক্তিশালী একটি আমলে, সফলতা ১০০% গ্যারান্টি দিচ্ছে পবিত্র কোরান!

আসসালামুআলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ। সুপ্রিয় দর্শক মন্ডলী আশা করি আল্লাহর অশেষ মেহেরবানীতে আপনারা সবাই ভাল আছেন। আল্লাহর উপর পূর্ণ ভরসা রাখা মুমিনের বৈশিষ্ট্য। কোন ব্যক্তি আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা না রেখে মুমিন হতে পারে না। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আল্লাহর উপরই ভরসা করতে হবে । পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল করো, যদি তোমরা মুমিন হও।

তাওয়াক্কুল আরবি শব্দ। এর অর্থ হল নির্ভর করা, ভরসা করা , আস্থা রাখা। তাওয়াক্কুল  আল্লাহ অর্থ আল্লাহর উপর ভরসা করা। ইসলামের পরিভাষায় যে কোন প্রয়োজন কিনবা সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে মহান আল্লাহর উপর পরিপূর্ণ নির্ভর করাকে তাওয়াক্কুল বলে । আল্লাহর উপর ভরসা করার নানা পর্যায়ে রয়েছে।  কেউ মুখে মুখে ভরসার কথা বলে, কেউ সুনির্দিষ্ট কিছু বিষয়ের উপর ভরসা করে, কেউবা সর্বদাই সব কাজে আল্লাহর উপর ভরসা করে । এটি তাওয়াক্কুল এর সর্বোচ্চ পর্যায়। আল্লাহর উপর যার আস্থা যত বেশি তার সফলতা ও পরিপূর্ণতা তত বেশি। কারণ সফলতা  একমাত্র আল্লাহরই হাতে।

পবিত্র কুরআনে এরশাদ হয়েছে, আর আল্লাহ যদি তোমাকে কোন ক্ষতি পৌঁছান তবে তিনি ছাড়া তা দূর করার কেউ নেই । আর যদি তিনি তোমার কল্যাণ চান তবে তাঁর অনুগ্রহের কোন প্রতিরোধকারী নেই  কেউ সেই কল্যাণ থেকে তোমাকে বঞ্চিত করতে পারবে না। তিনি তাঁর বান্দাদের যাকে ইচ্ছা তাকেই তাকে তা দেন । আর তিনি পরম ক্ষমাশীল ও দয়ালু সূরা ইউনুস আয়াত 107।

তাওয়াক্কুল একটি গুণ । এটি অর্জন ছাড়া ঈমান অসম্পূর্ণ থাকে, আবার যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর পূর্ণ আস্থা রাখে তিনি তার জন্য যথেষ্ট হয়ে যান। পবিত্র কুরআনের সম্পর্কে বলা হয়েছে যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর ভরসা করে তার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট। সুবাহানাল্লাহ। সুতরাং আল্লাহর উপর যখন আপনি ভরসা করেই ফেলবেন ।আপনি নিশ্চিত থাকেন একমাত্র আল্লাহ আপনার জন্য যথেষ্ট ।আর কোনো চিন্তার প্রয়োজন নেই। অন্য আয়াতে এসেছে, তুমি কোন সংকল্প করলে আল্লাহর উপর ভরসা করো।

আল্লাহর ভালোবাসা পাওয়ার একটি মাধ্যম হলো। সব বিষয়ে আল্লাহর উপর পরিপূর্ণ আস্থা রাখা তার সাহায্য প্রার্থনা করা। পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ বলেন নিশ্চয় আল্লাহ তাওয়াক্কুল কারীদের ভালবাসেন সূরা আল ইমরান আয়াত 159। আমরা যদি আল্লাহর উপর শতভাগ তাওয়াক্কুল করতে পারতাম তবে দুনিয়া ও আখেরাত দুটি আমাদের হাতে ধরা দিত। কিন্তু আমরা তা না করে দুনিয়ার পিছনে ছুটছি আল্লাহর হুকুম আহকাম বলে নিজেদের দুনিয়াবী স্বার্থ হাসিলের  জন্য ব্যস্ত হয়ে রয়েছি।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা যদি প্রকৃত ভাবেই আল্লাহতালার উপর নির্ভরশীল হতে তাহলে পাখিদের যেভাবে রিযিক দেওয়া হয় সেভাবে তোমাদের রিযিক দেওয়া হতো। এরা সকাল বেলা খালি পেটে বের হয় এবং সন্ধ্যাবেলা  ভরা পেটে বাসায় ফিরে আসে। আল্লাহ তায়ালার উপর ভরসা করার মানে এই নয় যে আসবাব ও উপকরণ বহন করা বৈধ। কেননা আল্লাহ তা’আলা দুনিয়াকে দারুন আসবাবপত্র উপকরণের কেন্দ্রবিন্দু বানিয়েছেন তাই আসবাব বা উপকরণ গ্রহণ করতে হবেই। ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন লোকজন হজ করত কিন্তু সঙ্গে পাথেয় নিয়ে আসতো না। আবু মাসুদ বলেন ইয়েমেনের কিছু লোক হজ করতে যেত কিন্তু সঙ্গে পাথেয় আন্ত না এবং তারা বলতো যে আমরা আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল করেছি।

অথচ মক্কায় পৌঁছার পর তারা ভিক্ষা করত। ফলে মহান আল্লাহ অবতীর্ণ করলেন,  তোমরা হজের সফরে সঙ্গে পাথেয় নিয়ে যাবে, আর জেনে রেখো তাকওয়াই হলো উত্তম পাথেয়।

হাসান বসরী রহমতউল্লাহ বলেন, রিযিক অন্বেষণে ক্ষেত্রে কোন উপায় উপকরণ অবলম্বন করা তাওয়াক্কুল পরিপন্থী নয়। যেমন কোন যানবাহনে আরোহন করেই গন্তব্যস্থলে কেউ নিরাপদে পৌঁছে যাবে। তার নিশ্চয়তা নেই বরং নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছার জন্য আল্লাহর উপর ভরসা করতে হবে। ’ ইবনুল কায়্যিম (রহ.) বলেন, ‘তাওয়াক্কুল হলো ইমানের অর্ধেক। আর দ্বিতীয় অর্ধেক হলো, আল্লাহর দিকে মনোনিবেশ করা। কোনো কিছু পাওয়ার জন্য শরিয়ত সমর্থিত বৈধ উপায়-উপকরণ গ্রহণ করা তাওয়াক্কুল পরিপন্থী নয়।’

তাই জীবন চলার পথে যেমন আমাদের বৈধ উপায় অবলম্বন করতে হবে।তেমনি আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও রাখতে হবে।এই দুই জিনিসের সংমিশ্রণ এই সফলতা অর্জন সম্ভব। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল করো।কর্মবিধায়ক হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট।

আল্লাহ রব্বুল আলামিন আমাদের জন্য আল্লাহর উপরই পরিপূর্ণ ভাবে তাওয়াক্কুল করার তৌফিক দান করে।আমিন

 

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button
Close