ইসলামিক

রিযিক বৃদ্ধির ১০ টি খাস আমল! রাসুল (সঃ) এর পরীক্ষিত!!

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ। সুপ্রিয় দর্শক মন্ডলী আশা করি আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের অশেষ মেহেরবানীতে আপনারা সবাই ভাল আছেন।সবাই চায় তার রিজিক বেড়ে যায় জীবনে প্রাচুর্য আসুন পবিত্র কোরআন ও হাদিসে রিজিক বৃদ্ধি গুরুত্বপূর্ণ আমল বর্ণনা করা হয়েছে। ইনশাআল্লাহ আজ আপনাদের সাথে সে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করব সুতরাং গুরুত্বপূর্ণ দশটি আমল হয়তো আপনি না জানার কারণে জীবনে প্রাচুর্যতা আসছে না জীবনে রিজিক বৃদ্ধি হচ্ছে না। ইনশাল্লাহ শেষ পর্যন্ত দেখার অনুরোধ করছি সবাইকে। 

 

১।তাকওয়া ও তাওয়াক্কুল অবলম্বন করা। খোদাভীতি ও আল্লাহর উপর পূর্ণ আস্থা স্থাপন রিজিক বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। এরশাদ হয়েছে আর যে আল্লাহকে ভয় করে তিনি তার জন্য উত্তরণের পথ তৈরি করে দেন এবং তিনি তাকে এমন উৎস থেকে রিযিক দেবেন যা কল্পনাও করতে পারবে না। আর যে আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল করে আল্লাহ তার জন্য যথেষ্ট। আল্লাহ তার উদ্দেশ্য পূর্ণ করবেন নিশ্চয়ই আল্লাহ প্রত্যেক জিনিসের জন্য একটি সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছেন সূরা তালাক আয়াত 2 থেকে 3 ।

 

২।পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে সুসম্পর্ক  রাখা। আত্মীয় স্বজনের হক আদায় করলে ইহকালেই সুফল পাওয়া যায় আনাস রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি যে ব্যক্তি কামনা করে জেতা রিযিক প্রশস্ত করে দেওয়া হোক এবং তার আয়ু দীর্ঘ করা হোক সে যেন তার আত্মীয়দের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখে ।বুখারি ।

 

৩। তওবা ও ইস্তেগফার করা। মুমিনের জীবনে তওবা ও ইস্তেগফার এর প্রভাব সুদূরপ্রসারীত। অধিক পরিমাণ ইস্তেগফার এবং বেশি বেশি আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে ক্ষমা চাওয়া রিজিক বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেছেন , যে ব্যক্তি বেশি বেশি করে আল্লাহ তার সব সংকট থেকে উত্তরণের পথ বের করে দেবেন, সব দুশ্চিন্তা মিটিয়ে দেবেন এবং  অকল্পনীয় উৎস থেকে তার রিজিকের ব্যবস্থা করবেন। 

 

৪।আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করা। দানে ধন বাড়ে। এটা সর্বজনবিদিত একটি প্রবাদ এ বিষয়ে কোরআনের বক্তব্য একেবারে স্পষ্ট । আল্লাহ বলেন বলে দাও নিশ্চয়ই তাঁর বান্দাদের মধ্যে যার জন্যে ইচ্ছা রিযিক প্রশস্ত করেন এবং সংকোচিত করেন। এবং তোমরা যা কিছু আল্লাহর জন্য ব্যয় করো, তিনি তার বিনিময় দেবেন এবং তিনি শ্রেষ্ঠ রিজিকদাতা। 

 

৫।বারবার হজ ওমরা করা। একের পর এক হজ ও ওমরা পালনে রিজিক বৃদ্ধি পায়। ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেছেন, তোমরা একের পর এক হজ ও ওমরা করতে থাকো, কেননা তা অভাব ও গুনাহ দূর করে দেয়, যেভাবে কামারের হাপর লোহা সোনা ও রূপার ময়লা দূর করে দেয়।একইভাবে হজ এবং ওমরা তোমাদের সকল গুনাহ দূর করে দেয়। 

 

৬।অসহায়ের প্রতি সদয় আচরণ করা। বিপদে-আপদে মানুষের পাশে দাঁড়ানো সামাজিক ইবাদত। রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু থেকে বর্ণিত যুদ্ধজয়ের পর মনে মনে কল্পনা করলেন। তিনি বোধহয় তার বিরক্ত ও শৌর্যবীর্যের কারণে অন্যের চেয়ে বেশি মর্যাদাবান। এমন প্রেক্ষাপটে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন তোমাদের মধ্যে থাকা দূর্বলদের কারণে তোমাদের সাহায্য করা হয় এবং রিযিক প্রদান করা হয়। সুতরাং নিজের শৌর্যবীর্যের অহংকার যেন নিজেদের মধ্যে না আসে। সবই আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের ইচ্ছা। সুতরাং অসহায়ের প্রতি সদয় আচরণ করতে হবে কেননা এতে আপনার উপর রিজিক বৃদ্ধি পাবে।

 

৭।ইবাদতের জন্য নিজেকে ফারেগ করে নেওয়া। আল্লাহর এবাদতের জন্যে নিজেকে ফারেক বা বিচ্ছিন্ন করার মাধ্যমে অভাব দূর হয়।আবু হোরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ  রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আল্লাহ তা’আলা বলেন, হে আদম সন্তান আমার ইবাদতের জন্য তুমি ঝামেলামুক্ত হও , আমি তোমার অন্তরকে প্রাচুর্য দিয়ে ভরে দেব এবং তোমার দারিদ্র ঘুচিয়ে দেব । আর যদি তা না করো, তবে তোমার হাত ব্যস্ততায় ভরে দেব এবং তোমার অভাব দূর করব না। 

 

৮।আল্লাহর রাস্তায় হিজরত করা। আল্লাহ়্ সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে হিজরত তথা স্বদেশ ত্যাগ করলে এর মাধ্যমেও রিজিকে প্রশস্ততা ঘটে। ইরশাদ হয়েছে আর যে আল্লাহর রাস্তায় হিজরত করবে সে জমিনের বহু আশ্রয়ের জায়গা  ও অসচ্ছলতা পাবে। আর যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উদ্দেশ্যে মুহাজির হয়ে নিজ ঘর থেকে বের হয় তারপর তাকে মৃত্যু পেয়ে বসে, তাহলে তার প্রতিদান আল্লাহর উপর অবধারিত হয়। আর আল্লাহ ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু। 

 

৯।বিয়ে করা।বিয়ের মাধ্যমে জীবনের বরকত ও প্রাচুর্য নেমে আসে।আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, আর তোমরা তোমাদের মধ্যকার অবিবাহিত নারী পুরুষ ও সৎকর্মশীল দাস-দাসীদের বিয়ে দাও। তারা অভাবী হলে আল্লাহর নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে অভাবমুক্ত করে দেবেন। আল্লাহ প্রাচুর্যময় ও মহাজ্ঞানী। 

 

১০।অভাব থেকে মুক্তির জন্য চূড়ান্তভাবে আল্লাহর কাছে দোয়া করা।আল্লাহর কাছে চাইলে আল্লাহ বান্দার হাতে ফিরিয়ে দেন  না। এরশাদ হয়েছে তোমরা আমাকে ডাকো আমি তোমাদের জন্য সারা দেবো সুরা মুমিন আয়াত 60 । 

 

 

আমরা সবাই যেন এই আমল গুলো করতে পারে আল্লাহ যেন আমাদের প্রত্যেককে আমল করার তৌফিক দান করেন সে জন্য বেশি বেশি দোয়া করব ওমা তৌফিক ইল্লা বিল্লাহ।

 

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button
Close