ইসলামিক

রাসূল সা এর ১০ টি মহামূল্যবান উপদেশ!! যা পৃথিবীকে পাল্টে দিয়েছে!!

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।আশা করি আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীনের অশেষ মেহেরবানীতে আপনারা সবাই ভাল আছেন। রাসূলুল্লাহ পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ শিক্ষক। তিনি বিভিন্ন সময় স্বিয় সাহাবাদের  বিভিন্ন বিষয়ে উপদেশ দিয়েছেন। এমন একজন সাহাবী ছিলেন মুয়াজ রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু। একবার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে দশটি উপদেশ দিয়েছিলেন।যে দশটি মহান এবং শ্রেষ্ঠ উপদেশ আজও পৃথিবীর কোনায় কোনায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা রাসুলপ্রেমিক রাসূলের আদর্শে প্রভাবিত মানুষেরা সেই দশটি উপদেশ কে ব্যক্তিগত জীবনে ধারণ করে রয়েছে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সালাম এর সেই মহান দশটি উপদেশ জানতে শেষ পর্যন্ত  পড়ার অনুরোধ করছি।

১। মহান আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরিক করবে না,  যদিও তোমাকে হত্যা করা হয় অথবা আগুনে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়।শিরক অত্যন্ত জঘন্য অপরাধ। মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে অসংখ্য জায়গায় বান্দাকে শিরকের ব্যাপারে সতর্ক করেছেন এবং শিরক থেকে বেঁচে থাকার আদেশ করেছেন।  ইরশাদ হয়েছে, তোমরা এবাদত করো আল্লাহর , তার সঙ্গে কোন কিছুকে শরীক করো না। শিরক অমার্জনীয় অপরাধ মহান আল্লাহ ক্ষমা করেন না মহান আল্লাহ বলেন নিশ্চয়ই আল্লাহ তাকে ক্ষমা করেন না সূরা নিসা আয়াত 48 ।তাই আমাদের উচিত শিরক থেকে মুক্ত থাকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা। এমন কাজ বর্জন করা, যাতে শিরকের আশঙ্কা থাকে।

২। পিতা-মাতার অবাধ্য হবে না,যদি পিতা মাতা তোমাকে তোমার পরিবার-পরিজন বা ধন সম্পদ ছেড়ে দেওয়ার হুকুমও দেয়।পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, তোমার রব ফায়সালা করে দিয়েছেন , তিনি ছাড়া অন্য কারও এবাদত না করতে ও মাতা পিতার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করতে।তাদের একজন বা উভয় তোমার কাছে বার্ধক্যে উপনীত হলে তাদের ওফ বলো না এবং তাদের ধমক দিও না বরং তাদের সঙ্গে সম্মানসূচক কথা বল। সুরা বনি ইসরাইল আয়াত ২৩। আলোচ্য আয়াতে এক আল্লাহর ইবাদত এর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।এর পরই মাতা পিতার সঙ্গে সদ্ব্যবহার  এর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর কারণ হলো, মহান আল্লাহ মানুষের প্রকৃত স্রষ্টা ও প্রতিপালক।কিন্তু মানুষ পৃথিবীতে আসার বাহিক উপায় ও মাধ্যম হলো মাতা-পিতা। তাই আল্লাহর ইবাদতের নির্দেশনার পরেই মাতা-পিতার প্রতি কৃতজ্ঞ হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, তিন ধরনের মানুষের দিকে আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন দৃষ্টিপাত করবেন না। মাতা-পিতার অবাধ্য, পুরুষের সাদৃশ্য অবলম্বন কারী নারী এবং দাইয়ুস। আর তিন প্রকার লোক জান্নাতে যাবে না। মাতা-পিতার অবাধ্য, মদ্যপানে আসক্ত এবং অনুদানের পর  খোতাদাতা।

৩।ইচ্ছাকৃতভাবে কখনো কোন ফরজ নামাজ ছেড়ে দিও না। কারণ যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে ফরজ নামায পরিত্যাগ করে, আল্লাহতালা তার থেকে দায়িত্ব উঠিয়ে নেন। অর্থাৎ নামাজ বর্জনকারী আল্লাহর নিয়ামত বরকত ও রহমত থেকে বঞ্চিত হবে। আল্লাহর ফেরেশতারা তার প্রতি অসন্তুষ্ট হন তাদের দোয়া কবুল হয় না তার চেহারার নুর উঠে যায়। তার জীবিকা সংকীর্ণ করা হয় ফলে সে ক্ষুধা-তৃষ্ণায় কষ্ট পায়। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফরজ নামাজের ব্যাপারে কঠিন হুশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন।

জাবের রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু থেকে বর্ণিত, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম কে বলতে শুনেছি , এবং শিরক ও কুফরের মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে নামাজ ছেড়ে দেওয়া। তাই কোন মুসলিম ইচ্ছাকৃত ভাবে ফরজ নামাজ ত্যাগ করতে পারে না। কারণ ফরজ নামাজ ত্যাগ করা মাত্রই সে আর মুসলিম থাকে না।

৪। মদপান থেকে বিরত থাকবে। কেননা তার সব অশ্লীলতার মূল। মাদক শুধু ব্যক্তিকে নয় তার গোটা পরিবারকে ধ্বংস করে দেয়। সমাজে তাদের মাথা নিচু করে দেয় । মানুষকে অশ্লীলতার দিকে ঠেলে দেয়। এ ধরনের অভ্যাস জীবনের সফলতার অন্তরায় । যারা এগুলো  ত্যাগ করতে পারেনা তারা সফল হতে পারে না। পবিত্র কুরআনে এরশাদ হয়েছে, হে মুমিনগণ নিশ্চয় মদ জুয়া প্রতিমা দেবী ও ভাগ্য নির্ধারক তীরসমূহ তো নাপাক শয়তানের কর্ম। সুতরাং তোমরা তা পরিহার করো, যাতে তোমরা সফলকাম হও।

৫। সাবধান !  আল্লাহর নাফরমানী ও গুনাহ থেকে বেঁচে থাকো। কেননা নাফরমানি দ্বারা আল্লাহর ক্রোধ অবধারিত হয়ে যায়। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, তোমরা প্রকাশ্য ও গোপন পাপ বর্জন করো , যারা পাপ করে অচিরেই তাদের পাপের সমুচিত শাস্তি দেয়া হবে।

৬।জিহাদ থেকে কখনো পালিয়ে যাবে না , যদিও সব লোক মারা যায়। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন , নিশ্চয় আল্লাহ মুমিনদের থেকে তাদের জান ও মাল ক্রয় করে নিয়েছেন। এর বিনিময়ে যে তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত। তারা আল্লাহর পথে লড়াই করে । অতএব তারা মারে ও মরে। তাওরাত, ইঞ্জিল  কুরআনে সম্পর্কে সত্য ওয়াদা রয়েছে। আর নিজ ওয়াদা পূরণে আল্লাহর চেয়ে অধিক কে হতে পারে? সুতরাং তোমরা যে সওদা করেছো যে সাওদার জন্য আনন্দিত হও এবং সেটাই মহাসাফল্য।

৭।যখন মানুষের মধ্যে মহামারী ছড়িয়ে পড়ে আর তুমি সেখানে রয়েছো, তখন সেখানে তুমি অবস্থান করবে পলায়ন হবে না। রাসূল  সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলোচনা করলেন এবং বললেন, বনি ইসরাইলের এক গুষ্টির এসেছিল, তারা বাকি অংশই হচ্ছে মহামারী। অতএব কোথাও মহামারী দেখা দিলে এবং সেখানে তোমরা অবস্থানরত থাকলে সে জায়গা থেকে চলে এসো না। অন্যদিকে কোন এলাকায় এটা দেখা দিলে এবং সেখানে তোমরা অবস্থান না করলে সে জায়গায় যেও না।

৮।শক্তি-সামর্থ্য অনুযায়ী নিজের পরিবার-পরিজনের জন্য খরচ করবে। কৃপণতা মুমিনের বৈশিষ্ট্য নয় । কোন মুমিন  কৃপণ হতে পারেনা। আবু হোরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি , যে ব্যক্তির চরিত্রে কৃপণতা ও হীন মানসিকতা রয়েছে সে খুবই নিকৃষ্ট।

৯।পরিবারের লোকদের আদব-কায়দা শিক্ষার জন্য কখনও শাসন হতে বিরত থাকবে না। রাসুল সাঃ বলেছেন, সাবধান ! তোমাদের সবাই কে রাখাল ( দায়িত্বশীল) এবং তোমাদের প্রত্যেককেই রাখিল

( দায়িত্ব পালন) প্রসঙ্গে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তাই পরিবারের লোকদের সর্বাবস্থায় আল্লাহর হুকুম পালনে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। প্রয়োজনে শাসন করতে হবে। সকল প্রকার পাপ কাজ থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করতে হবে ।

১০।আল্লাহ তা’আলা সম্পর্কে তাদেরকে ভয় প্রদর্শন করতে হবে। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, আর তুমি তোমার নিকট আত্মীয়দের সতর্ক করো।এই আয়াত নাযিল হওয়ার পর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম বলেন, হে সাফিয়া বিন্তুু আব্দিল মোতালিব, হে ফাতিমা বিনতু মুহাম্মদ,হে আব্দুল মোত্তালিব এর বংশধর। আল্লাহ তাআলার পাকড়াও হতে তোমাদেরকে বাঁচানোর ক্ষমতা আমার নেই।তোমরা আমার বংশের হলেও পরকালে তোমাদের আমল অনুযায়ী তোমাদের নাজাত সন্ধান করতে হবে।

আল্লাহ পাক আমাদের সকলকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই মহান দশটি উপদেশ যেন জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে মেনে চলতে পারি সেই তৌফিক দান করুক। আমিন।

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button
Close