ইলুমিনাতি

যে ৪ শ্রেণীর মানুষের ঘরে রহমতের ফেরেশতা আসে না!

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ। সুপ্রিয় দর্শক মন্ডলী আশা করি আল্লাহ তায়ালার অশেষ মেহেরবানীতে আপনারা সবাই ভাল আছেন। অনেক কষ্ট করে একটি বাড়ি বানিয়েছেন সেখানে আপনি থাকবেন আপনার পিতা মাতা আপনার স্ত্রী ছেলেমেয়ে পরিবারের সকলেই শান্তির সাথে বসবাস করায় আপনার উদ্দেশ্য। অশান্তি প্রবেশ করতে না পারে এজন্য সর্বদা আপনি সতর্ক থাকেন। কিন্তু আপনার জানামতে বা অজানাতে এমন কিছু ভুল আপনি করে ফেলছেন যার কারণে আপনার বাড়িতে ধীরে ধীরে অশান্তি প্রবেশ করতে থাকে।

একসময় এই শান্তিপূর্ণ বাড়িটি অশান্তির কারখানা হয়ে যায় রূপান্তরিত হয় জাহান্নামের টুকরোয়। যদিও হওয়ার কথা ছিল জান্নাতের টুকরো। শান্তি অশান্তি এটাই দুনিয়ার নিয়ম কেউ কেউ মনে করেন শান্তি তো আসে জান্নাত থেকে এবং অশান্তি আসে জাহান্নাম থেকে । বড় বড় বিল্ডিং তৈরি করলেই যে সেখানে শান্তি থাকে এটাও কিন্তু ভুল কথা । আর ছোট ছোট ঘর গুলি অশান্তির আগুনে দাউ দাউ করে জ্বলে এটা ভুল ধারণা । হাদিস থেকে আমরা জানতে পারি যে ঘরে রহমতের ফেরেশতা আসা-যাওয়া করে সে ঘরে আল্লাহর রহমত বা অনুগ্রহ বর্ষিত হয়। সুবহানাল্লাহ

আর যে ঘরে আজাবের ফেরেশ্তা আসা-যাওয়া করে সে ঘরে আল্লাহর গজব অভিশাপ বর্ষিত হয়। আজকের আলোচনা যে চার প্রকার ঘরে আল্লাহর গজব বর্ষিত হয়। নাউজুবিল্লাহ। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদের পুরো  রিপোর্ট টি পড়ার তৌফিক দান করুক এবং সেই সকল কাজ থেকে দূরে থাকার তৌফিক দান করুন যে কাজ করলে আল্লাহর গজব ঘরে প্রবেশ করে।

১।যে ঘরে কুকুর ও ছবি থাকে। হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু হতে বর্ণিত তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন। রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করে না যে ঘরে কুকুর পালন করা হয় গৃহপালিত পশু হিসেবে এবং বিভিন্ন মানুষের ছবি দেয়ালে টানিয়ে রাখা হয় ।নাউজুবিল্লাহ। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমরা যারা না যিনি এই কর্মকাণ্ড করে এসেছি কুকুর পালন পালন করেছি ঘরের ছবিটা নিয়েছি ,এ কাজগুলো থেকে আমরা ইনশাআল্লাহ আজকের পর থেকে দূরে থাকবো।

২। দ্বিতীয় নম্বর হচ্ছে যে ঘরে পেশাব রাখা থাকে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু থেকে বর্ণিত নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন।ঘরের মধ্যে কোন পাত্রে  এরশাদজমা করে রাখা উচিত নয়। কেননা ঐ ঘরে রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করে না যে ঘরে পেশাব জমা করে রাখা হয় অর্থাৎ ঘরের কোণে গর্ত করে পেশাব করা হয় অথবা কোন পাত্রে পেশাব ঢেকে রাখা হয় ,সেই ঘরে রহমতের ফেরেশতা আসা-যাওয়া করে না।

৩।যে ঘরে বাদ্যযন্ত্র থাকে। হযরত ইবনে গাঁফালাহ রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু বলেন। যে ঘরে বাদ্যযন্ত্র থাকে সে ঘরে রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করে না মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা। এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার করে দেই রেডিও-টিভি মোবাইল ইত্যাদি বা কোন বাদ্যযন্ত্র যদি ভালো কাজের জন্য ব্যবহার করা হয় যেমন ওয়াজ সোনা কেরাত সোনা ইত্যাদি ।তাহলে সেটি এই হাদীসের আওতায় পড়বে না অর্থাৎ আপনি প্রযুক্তির উৎকর্ষতায় আবিষ্কৃত নিত্য-নতুন পণ্য গুলিকে দিনের কাজে ব্যবহার করলে সওয়াব হবে। অর্থাৎ এতে কোন গোনাহ নেই কারণ এটি ভালো কাজের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে বরং যে সকল বাদ্যযন্ত্র গান শোনার উদ্দেশ্যে রাখা হয় সেগুলি এ হাদিসের উদ্দেশ্য।

৪। যে ঘরে ঘণ্টি থাকেথাকে অর্থাৎ মন্দিরের যে ঘটি বাজানো হয় সেটি যদি ঘরে থাকে সেই ঘরে রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করেন । হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু হতে বর্ণিত তিনি বলেন প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করে না যে ঘরে ঘণ্টি থাকে আর ওই জামাতের সাথে থাকে না যাদের সঙ্গে ঘণ্টি আছে। মুসনাদে আহমাদ আবু দাউদ শরীফ অনেক সময় দেখা যায় আইসক্রিম ফুচকা সহ বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্য যারা বিক্রি করে তাদের কাছে মন্দিরের ঘন্টার মতন গন্টি থাকে।  যা বাজিয়ে তারা গ্রাহকদের আকৃষ্ট করে থাকে।যারা এই ধরনের গন্টি ব্যবহার করে তাদের সাথে রহমতের ফেরেশতা থাকে না।

অর্থাৎ যে ঘরে কুকুর ও ছবি থাকে যে ঘরে পেশাব রাখা থাকে যে ঘরে বাদ্যযন্ত্র থাকে এবং যে ঘরে ঘণ্টি থাকে সে ঘরে কস্মিনকালেও রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করে না। আরজে ঘরে রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করে না সে ঘরে আজাবের ফেরেশতা প্রবেশ করে আর যে ঘরে আজাবের ফেরেশতা প্রবেশ করে সে ঘরে গজব নাজিল হতে থাকে। আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন আমাদেরকে দ্বীনের উপর এখান থেকে আমাদের ঘরগুলোকে দিন মোতাবেক পরিচালিত করে জাহান্নাম থেকে জান্নাতের টুকরায় পরিণত করার তৌফিক দান করুক। প্রত্যেকটি মুসলিম ভাই আমরা ইনশাআল্লাহ এর উপর আমল করব যে চারটি আলোচনা হয়েছে এর হাত থেকে আমরা আমাদের পরিবার এবং প্রতিবেশীদের পরিবারকে রক্ষা করার চেষ্টা করব। আমিন

Leave a Reply

Back to top button
Close