ইলুমিনাতি

যে স্বপ্ন গুলো দেখলে বুঝবেন আপনার মনের আশা পূরণ হতে যাচ্ছে!

আসসালামুআলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ। সুপ্রিয়  দর্শক বৃন্দ আশা করি আল্লাহ তায়ালার অশেষ মেহেরবানীতে আপনারা সবাই ভাল আছেন। একজন দর্শক লিখে পাঠিয়েছেন ভাই আমাকে একটু জানাবেন কি কোন স্বপ্ন গুলো দেখলে আমাদের মনের আশা পূরণ হবে । কোরআন হাদিস অনুযায়ী যেসব দেখলে আমাদের মনের আশা পূরণ হবে । প্রিয় ভাই আপনার প্রশ্নের উত্তরে প্রথমে বলতে চাই স্বপ্নের ব্যাখ্যার ক্ষমতা আমার ব্যক্তিগতভাবে নেই।

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এর একজন নবী ছিলেন হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালাম। যাকে আল্লাহ রব্বুল আলামিন অন্যান্য সকল নবীদের মত একটি বিশেষ ক্ষমতা দান করেছিলেন। তা হচ্ছে তিনি মানুষের স্বপ্নের ব্যাখ্যা বলে দিতে পারতে। আমরা পবিত্র কুরআনের অসংখ্য গল্প জানি যে ইউসুফ আলাই সালাম কিভাবে স্বপ্নের ব্যাখ্যা বলে রাজার মন জয় করেছিলেন অতঃপর সে রাজ্যের অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব প্রাপ্ত হয়েছিলেন। এছাড়াও আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নিজেও স্বপ্নের ব্যাখ্যা বলতেন।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন স্বপ্ন নবুয়াতের 46 ভাগের এক ভাগ। স্বপ্ন সত্যি হয় বিশেষ করে নবী-রাসূলগণ এবং আওলিয়ায়ে কেরামগণ স্বপ্ন দেখেছেন আল্লাহ বিভিন্নরকম বিষয়গুলো স্বপ্নে মানুষকে জ্ঞাত করান।কোরানেও আল্লাহ পাক এই বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। এখন মনের আশা পূরণ হয় এ বিষয়ে যে স্বপ্নগুলো এসেছে তা আমি গ্রহণ করেছি আল্লামা ইবনে সিরিন রাহিমাহুল্লাহ এর গ্রন্থ অবলম্বনে গ্রন্থটির নাম ছিল খাপ নামক গ্রন্থ এবং সেটি আন্তর্জাতিকভাবে অনেক স্বীকৃত হয়েছিল।

যদিও অনেক ওলামায়ে কেরাম দের মধ্যে আল্লামা ইবনে শিরিন  রাহিমাহুল্লাহ আলাইহি-এর ব্যাখ্যাগুলো নিয়ে দ্বিমত রয়েছে। তবে আল্লাহই ভাল জানেন কেননা সকল জ্ঞানের চূড়ান্ত জ্ঞানী কিন্তু সেই আল্লাহ রব্বুল আলামিন।তো যাইহোক মনের আশা পূরণ হয় যে স্বপ্নগুলো দেখলে আল্লামা ইবনে সিরিন রাহিমাহুল্লাহ এর গ্রন্থ অবলম্বনে। এক যদি আপনি হজ করতে দেখেন তাহলে বুঝবেন খুব দ্রুত আপনার মনের আশা পূরণ হতে চলেছে। আল্লামা শিরিন রাহিমাহুল্লাহ এমনটি জানিয়েছেন তার খাবনামা  গ্রন্থে।

দ্বিতীয় নম্বর যে স্বপ্নের নমুনাটি তিনি উল্লেখ করেছেন সেটি হচ্ছে যদি আপনি সাদা কাগজে দেখেন তাহলে বুঝবেন আপনার মনের আশা পূরণ হতে চলেছে। এছাড়াও যদি আপনি স্বপ্নে দেখেন যে আপনি স্বীকার করতে যাচ্ছেন বা কোথাও শিকারে বের হয়েছেন কোন জন্তু-জানোয়ার স্বীকার করবেন তাহলে বুঝতে হবে আপনার মনের আশা আতি তাড়াতাড়ি সফলকাম হতে যাচ্ছে। এছাড়াও আপনি যদি স্বপ্নে হরিণ দেখেন তাহলে ভাল আর যদি দেখেন হরিণ দৌড়াদৌড়ি করছে তখন বুঝবেন মনের আশা পূর্ণ হবে। যদি আপনি বাতাস যেমন ধীরে ধীরে বাতাস বইছে যদি আপনি দেখেন পাখি মনের আনন্দে উড়ছে । যদি আপনি নিজেকে পান খেতে দেখেন তাহলে অবশ্যই আপনার মনের আশা পূর্ণ হবে এমনটিই গ্রন্থে বলা আছে। এছাড়া বলে আছে যদি আপনি নৌকা যাতায়াত করতে দেখেন নিজে নিজে খেতে দেখেন বড় বড়  নখ দেখেন বড় মাছ দেখেন নামাজ পড়তে দেখেন কোন আলেম ব্যক্তি খুশি অবস্থায় আছেন এমনটি দেখেন বিশাল অট্টালিকা দেখেন খেজুর দেখেন ঘড়ি দেখেন তাহলে ও আপনার সম্পদ বাড়বে এবং খুব দ্রুত আশা পূরণ হবে।

এই স্বপ্নগুলো যদি আপনি দেখেন তাহলে মনে করবেন খুব দ্রুত আপনার মনের আশা পূর্ণ হবে।এমনটি বলেছেন আল্লামা শিরিন রাহিমাহুল্লাহ । এটি আমার ব্যক্তিগত অভিমত নয় এটি একজন বড় ওলামায়ে কেরামের বিখ্যাত গ্রন্থ আল্লাহুম্মা শিরিন রাহিমাহুল্লাহ এর খাবনামা গ্রন্থ থেকে নেওয়া। এখন হয়তো প্রশ্ন আসতে পারে যেহেতু কুরআন এবং সুন্নাহ অনুযায়ী এই স্বপ্নের ব্যাখ্যা গুলো প্রসিদ্ধ নয় তাহলে আমরা কেনইবা এগুলো মানতে যাব। সেই প্রশ্নের উত্তর আমি প্রথমে বলতে চাই যে এগুলো মানতেই হবে এমন কোন কথা নেই এগুলো না মানলেও কোন সমস্যা নেই । যেহেতু এ স্বপ্নের ব্যাখ্যা গুলো কোন চূড়ান্ত আমল  নয়। তাহলে এর উপরে চূড়ান্ত বিশ্বাস অবিশ্বাসে আপনার আপনার দিন বাকি তাতে কোনো বিশেষ পার্থক্য সৃষ্টি করবে না । এছাড়াও ওলামায়ে কেরামগণ যখনই স্বপ্নের ব্যাখ্যা দিলেন তখনই চেষ্টা করতেন কোরআন সুন্নাহ অনুযায়ী এর তাৎপর্য বের করতে । তবে এত সকল ব্যাখ্যার মধ্যে আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি যদি আপনি স্বপ্নে হজ দেখেন তাহলে বুঝবেন খুব দ্রুত আপনার মনের আশা পূর্ণ হতে চলেছে। এই ব্যাখ্যাটি আমার সবচেয়ে পছন্দের এবং যৌক্তিক ব্যাখ্যা । কেননা আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তার পছন্দের ব্যক্তিদেরকে আল্লাহর ঘরে যাওয়ার তৌফিক দান করেন। পবিত্র হচ্ছে ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের একটি স্তম্ভ।

আরে ঘরে যাওয়াটা একটি সৌভাগ্যের কাজ হাজারো মানুষের সবচেয়ে বড় মনো বাসনা থাকে জীবনে একবার আল্লাহর ঘর তাওয়াফ করতে যাবো রাসূলের রওজা জিয়ারত করতে যাবো। সুতরাং আমি নিশ্চিতভাবে বলতে পারি যদি আপনি স্বপ্নে দেখেন আপনি হজ করতে যাচ্ছেন তাহলে আপনি বুঝে নিবেন আপনার মনের নেক মাকসাদ দ্রুত পূরণ হতে চলেছে । আল্লাহ রব্বুল আলামীন আমাদের বেশী বেশী নেক আমল করার তৌফিক দান করুক এবং সকল বিষয় মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের দরবারে প্রার্থনা করা এবং চাওয়ার দোয়া করার তৌফিক দান করুক। আমিন

Leave a Reply

Back to top button
Close