ইসলামিক

যে আমালটি করলে আল্লাহ আপনার সম্মান বাড়িয়ে দেওয়ার গ্যারান্টি দিয়েছেন!

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ। সম্মান সম্মান ভুলত্রুটি ও ভালো মন্দ মিলেমিশেইতো মানুষের জীবন। কেউ ভুলের উর্ধ্বে নয়। কিন্তু কারো ভুলে তার প্রতি ক্রোধ দেখানো রাগ জারা জেদ উত্তেজনা কিংবা উগ্র কাতর হওয়া ভীষণ নিন্দনীয়। এইসব মানুষকে ছোট করে ফেলে একপর্যায়ে নিজের কাছে নিজেকে ছোট মনে হয়। আপনি যদি কারো উপর আক্রমণ করে বসেন অতঃপর আপনার কেমন অনুভূতি হয়। আর রাগান্বিত অবস্থায় নিজেকে সংবরণ করে ধৈর্য ধারণ করুন। তারপরে কেমন অনুভূতি হয় একবার দুইটার মধ্যে কমপেয়ার করলেই বুঝতে পারবেন । ধৈর্যের ফল কত মিষ্টি।

আমলনামা থেকে সোয়াব মুছে দেয় এই উগ্রতা। অথচ বিপরীতে ক্ষমা মানুষের মান মর্যাদা বৃদ্ধি করে । কাউকে ক্ষমা করে একজন সাধারন মানুষ হয়ে উঠতে পারে অসাধারণ মানুষে।ক্ষমাশীল মানুষ সর্বোত্তম ব্যবহারকারী ও ধৈর্যশীল।যিনি উদার প্রকৃতির তিনি ক্ষমাশীল যাদের এই ধরনের গুনাগুন রয়েছে তারা আল্লাহর বিশেষ নিয়ামত প্রাপ্ত।ক্ষমাকারী ধৈর্যবান ও সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত তাঁরা মহান এবং অত্যন্ত দয়ালু ও ক্ষমাশীল এবং আল্লাহ নিজেও অসীম ও ক্ষমাশীল। তাই তিনি ক্ষমা করতে ভালোবাসেন। যে অন্যকে ক্ষমা করে তাকেও ভালোবাসেন।

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তা’আলা বলেন যারা সুসময়ে ও দুঃসময়ে ব্যয় করে এবং ক্রোধ সম্বরন করে ও মানুষকে ক্ষমা করে। আর আল্লাহ সৎকর্মশীলদের কে অনেক ভালবাসেন।জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে মানুষ অন্যের রুরো বা কটু কথাবার্তা কিংবা অশোভনীয় আচার-আচরণে কষ্ট পেয়ে থাকেন। ফলে একে অপরের মতবিরোধ তৈরি হয় অনেক সময় মতবিরোধ ও মতো করে পরস্পরের মধ্যে সংঘাত ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আল্লাহ তা’আলা মানুষকে আদেশ দিয়েছেন যেন একে অপরকে ক্ষমা করেন । পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে যদি তোমরা ভালো কিছু প্রকাশ করো কিংবা গোপন কর অথবা মন্দ ক্ষমা করে দাও, তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ তা’আলা ক্ষমাশীল ক্ষমতাবান।

ক্ষমা কারী কে আল্লাহতালা বিশেষভাবে পুরস্কার দেবেন। পরস্পরের মধ্যে বিরোধ নিষ্পত্তি কারি ও আল্লাহর কাছ থেকে পুরস্কার পাবেন। আল্লাহ তা’আলা বলেন আর মন্দের প্রতিফল মন্দঅতঃপর যে ক্ষমা করে দেয় এবং আপোষ নিষ্পত্তি করে তার পুরস্কার আল্লাহর কাছে রয়েছে।সুবাহানাল্লাহ ! নিশ্চয়ই আল্লাহ জালিমদের পছন্দ করেন না ।ক্ষমা করলে কারো মর্যাদা কমে না বরং বহুগুণে ক্ষমাশীল ব্যক্তির মর্যাদা বৃদ্ধি পেতে থাকে। হযরত আবু হোরায়রা রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু থেকে বর্ণিত হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সাদাকা করলে সম্পদের ঘাটতি হয় না। যে ব্যক্তি ক্ষমা করে আল্লাহ তার মর্যাদা বৃদ্ধি করে দেন। আর কেউ আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য বিনীত হলে তিনি তার মর্যাদা বাড়িয়ে দেন ।

উদারতা ও সহিষ্ণুতা মুমিনের বৈশিষ্ট্য কোমলতা ও হৃদয়াত্মা মুমিনের বিশেষ একটি গুন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাহু সাল্লাম যখন সাহাবী মোয়াজ ও মুসা রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু ইয়েমেনে প্রেরণ করেন তখন একটি চূড়ান্ত আদেশ দেন।লোকেদের প্রতি কোমলতা করবে কঠোরতা করবে না।তাদের সুখবর দিবে  ঘৃণা সৃষ্টি করবে না পরস্পর একমত হবে মতভেদ করবে না। সুবহানাল্লাহ !

অথচ আজকে মুসলিম বিশ্ব মতবাদে লিপ্ত।এক আলেম আরেক আলেমের বিরুদ্ধে ঘৃণা বিদ্বেষ সবই রয়েছে। অথচ যখনই দুজন সাহাবীকে আল্লাহর রাসূল দিনের জন্য  ইয়েমেনে প্রেরণ করেছিলেন। তখন বলেছিলেন লোকদের প্রতি কোমলতা করবে কঠোরতা করবে না ।তাদের সুখবর দিবে ঘৃণা সৃষ্টি করবে না। পরস্পর এক মত হবে মত ব্যাক করবে না।পারিবারিক সামাজিক ও জীবনের অন্যান্য পর্যায়ে বিভিন্ন বিষয়ে মতবিরোধ দেখা যাওয়া স্বাভাবিক। তবে এমন হলে মুসলমান হিসেবে প্রত্যেকের দায়িত্ব হলো অন্যকে ক্ষমা করে দেওয়া। পারস্পরিক ভুলত্রুটি গুলোকে শুধরে দেওয়া এতে সম্পর্ক বন্ধন আরো মজবুত হয়। আল্লাহ সবাইকে ক্ষমাশীল হওয়ার তৌফিক দান করুক।আমিন।

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button
Close