ইসলামিক

মেয়েদের জন্য যে ৪ ধরনের সাজসজ্জা ইসলাম নিষিদ্ধ করেছে!! সকল মুসলিমের জানা উচিৎ!

মেয়েদের জন্য যে ৪ ধরনের সাজ সজ্জা ইসলাম নিষিদ্ধ করেছে!! সকল মুসলিমের জানা উচিৎ!আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ। সুপ্রিয় দর্শক মন্ডলী আশা করি আল্লাহ তায়ালার অশেষ মেহেরবানীতে আপনারা সবাই ভাল আছেন। আজকে আপনাদের সাথে আলোচনা করব মহিলাদের সাজসজ্জা বিষয়ে। আমাদের মা-বোনেরা সচরাচর একটু একটু সাজসজ্জা করেই থাকে। ইসলাম সাজসজ্জা কে সমর্থন করে না ব্যাপারটা কিন্তু তা-ই নয়। অনেকের মধ্যে ভ্রান্ত ধারণা আছে যে মহিলাদের কোন সাজসজ্জা ইসলাম সমর্থন করে না। অথচ রাসূল সাল্লাহু সাল্লাম এর হাদিস দ্বারা প্রমাণিত স্বামী এবং  মহরম পুরুষ তথা যাদের সামনে ইসলাম যাওয়া-আসা সমর্থন করেছে যাদের সাথে চলাফেরা যাওয়া-আসা ইসলাম পরিপূর্ণ সমর্থন দিয়েছে তাদের সঙ্গে কোনো বাধা নেই। তবে সাজসজ্জা শুধুমাত্র স্বামীকে দেখানোর জন্যই প্রযোজ্য। আজকে আমরা আলোচনা করব মহিলাদের জন্য যে চারটি সাজসজ্জা ইসলাম একেবারেই নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে।

আসুন আমরা জেনে নেই যে চার প্রকার নিষিদ্ধ সাজসজ্জা রয়েছে এগুলো কি কি।

১। ঘণ্টা যুক্ত নুপুর পরা। হযরত আয়েশা সিদ্দীকা রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু এর নিকট কোন বাজনা যুক্ত নুপুর পরা মেয়ে আসলে। তিনি বলেন খবরদার তা কেটে না ফেলা পর্যন্ত আমার ঘরে প্রবেশ করবে না।অতঃপর সে নারী দাঁড়িয়ে গেল অতঃপর তিনি বলেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম এরশাদ করেছেন, যে ঘরে থাকে সে ঘরে রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করে না।

সহীহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম এরশাদ করেছেন, ঘন্টি বাজার ঘুঙ্গুর হল শয়তানের বাদ্যযন্ত্র। যা নারীরা সচারাচার পায়ে দিয়ে ঘুরে।

২। কপালের টিপ পড়া। আসুন আজ আমরা জেনে নেই এই টিপ কোথা থেকে এসেছে আর কেনই বা রাসূল সাল্লাহু সাল্লাম  মহিলাদের কপালের মধ্যখানে বড় ধরনের এই টিপের প্রথাটি নিষিদ্ধ করেছেন। হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালামকে যখন নমরুদ আগুনে নিক্ষেপ করার জন্য চাল কে স্থাপন করেছিল। তখন ফেরেশতারা অন অন্য প্রান্ত থেকে বাধা দিচ্ছিল। শয়তান এসে তাদেরকে পরামর্শ দিয়েছিল যদিও সময় যখন ফেরেশতারা তোমাদের এই কাঠের তৈরি চালক এর মাধ্যমে আগুনে নিক্ষেপ করতে বাধা প্রদান করে তখন তোমরা তাদের সেই স্থান থেকে সরিয়ে  দিবে। তখন তারা বলল তোমরা কিছু নগ্ন নারীদের নিয়ে আসো যাদের কপালে টিপ থাকবে ।অতঃপর যে কথা সেই কাজ তাই করা হল। ওই মহিলাদের কে উলঙ্গ করে এনে সামনে বসিয়ে দেওয়া হল অতঃপর রহমতের ফেরেশতারা চলে গেল। তখন থেকে ওই মহিলাদের কপালে টিপ দেওয়া হয়েছিল। সেখান থেকেই মহিলাদের কপালে টিপ দেওয়া খারাপ মহিলাদের লক্ষণ হয়ে আসছে।

নাউজুবিল্লাহ তখন থেকে ওই মহিলাদের কপালে টিপ দেওয়া বিধানটি ইসলামে নিষিদ্ধ রয়েছে। তবে আমাদের দেশে যে সকল নারীরা কপালে টিপ দিয়ে থাকেন তারা সকলেই দুশ্চরিত্রা খারাপ মহিলা এ কথাটি কোন ভাবেই বলা যাবেনা। কিন্তু না জেনেই সাধারণত মহিলারা এই কাজটি করে থাকেন । আশা করি যারা পড়ছেন সেই বোনদের আমার আমার অনুরোধ থাকবে আপনারা চরিত্রবান সম্ভ্রান্ত পরিবারের নারী।আশা করি এই কুয়াবৃষ্টি থেকে নিজেদের সরিয়ে নেবেন কপালে টিপ পড়বেন না।

৩। পরচুলা বা নকল চুল লাগানো। হযরত ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম এরশাদ করেছেন যে মহিলা পরচুলা লাগিয়ে দেয় এবং পরচুলা  লাগাতে বলে আর যে মহিলা গায় উলকি আকে তাদেরকে অভিশাপ করেছেন। আজকের জমানায় অনেক মহিলা ও নারীদেরকে দেখা যায় তাদের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ট্যাটু অর্থাৎ উল্কি আঁকে।যা ইসলামে ভয়ংকর রকমের নিষিদ্ধ একটি কাজ।

৪। ভ্রুপ্লাক করা। এটা এত ভয়াবহ আকারে আমাদের সমাজে ছড়িয়ে পড়েছে । দ্বীনদার নেককার পর্দাশীল অনেক বোনের আই ভ্রু প্লাক না করে রাস্তাঘাটে বের হন না দেখা যায়। অনেক নারীরা পরিপূর্ণ হিজাব মেনটেন করছেন ভালোভাবে তারা ইসলামের পরিপূর্ণ পর্দা মেনে চলছে কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য তাদের চোখের দিকে তাকালেই বোঝা যায় ভ্রু প্লাক করা।রাসূল পাক সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম বলেছেন দাঁতের মাঝে ফাঁক সৃষ্টি করা এবং ভ্রু প্লাক করা সৌন্দর্যের স্বার্থেই কর্মকাণ্ডগুলো অভিশপ্ত বোখারী শরীফ।

আমরা সকলেই এ বিষয়গুলো আমাদের আত্মীয় স্বজনদের জানিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করব এবং আমাদের সকলের মা ও বোনদের কে আল্লাহ তাআলা এই চারটি সাজ-সজ্জা থেকে হেফাজত রাখুক। আমিন।

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button
Close