ইসলামিক

মুহাম্মদ সাঃ এর ৫টি অতি প্রিয় খাদ্য ও তার বৈজ্ঞানিক উপকারিতা!! জানলে নিয়মিত খাবেন!

মুহাম্মদ সাঃআসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ সুপ্রিয় দর্শক মন্ডলী আশাকরি আল্লাহর অশেষ মেহেরবানীতে আপনারা সবাই ভাল আছেন। আজকে আমরা আলোচনা করব আলোচনা করব মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পাঁচটি প্রিয় খাদ্য ও তার উপকারিতা নিয়ে। আমরা কে না চায় রাসুল পাক সাঃ কে প্রত্যেকটি বিষয় অনুসরণ করতে। নবীপ্রেমিকদের অন্তরে ত রাসূলের ভালোবাসা  সদা বিরাজমান।তাহলে রাসুলের পছন্দের সেরা পাঁচটি খাবার এর বৈজ্ঞানিক উপকারিতা এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম যে খাবারগুলো কে ভালোবাসতেন কেন ভালোবাসতেন এবং এর উপকারিতা কি এ বিষয়টি জানতে অসম্পূর্ণ ব্লগ টি পড়ুন।

আমি প্রথমে পাঁচ নম্বর খাবার দিয়ে শুরু করছি। আর সেটি হচ্ছে ছাগলের গোশত, রাসুল সাঃ এর পছন্দের খাবারের তালিকায় পাঁচ নম্বরে রয়েছে ছাগলের গোশত। হযরত আবু হোরায়রা রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু হতে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে টুকরো রুটি একটি গোশতের গামলা উপস্থিত করা হলো । অতঃপর তিনি রান খেলেন আর ছাগলের গোশতের মধ্যে সেটাই ছিল তার নিকট অধিক প্রিয় খাদ্য। সহি বুখারীর আরও একটি হাদিসে ইবনে মাসউদ  রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু হতে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম বলেন, এবং তার কাছে ভালো লাগতো এবং তিনি চিহ্নিত করে দিতেন এবং ইহুদিরা ও তাকে চিহ্নিত করছে।

তাহলে এ হাদিস থেকে আমরা স্পষ্ট বুঝতে পারলাম যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছাগলের গোশতের রানের অংশটুকু বেশি পছন্দ করতেন। বর্তমান চিকিৎসাবিজ্ঞান বলে,  আমিষ আমাদের খাদ্যের ছয়টি উপাদান এর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। আর ছাগলের গোশত আমিষের একটি কারখানা। বিভিন্ন রকম এমিনো এসিড এর নানারকম সমন্বয়ে গঠিত হয় এক একটি টি আমিষ। অধিকাংশ আমি সে 100 থেকে 1000 টি অ্যামিনো এসিড থাকে। মানবদেহের ডি এন এ ও আর এন এ তৈরীর জন্য এমিনো এসিড সরবরাহ করে। এছাড়া ইমাম যুহরী রাদিয়াল্লাহু বলেন, গোষ্ঠ সাত প্রকার শক্তি বৃদ্ধি করে। তার মধ্যে রয়েছে চোখের দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি করা, লাবণ্য পরিষ্কার করা এবং পেটকে সংকুচিত করা অন্যতম। যেটা সাধারণ চিনিতে থাকে তিন থেকে চার শতাংশ।

পানি তার ওজনের তুলনায় পরিমাণে 75%  হয়ে থাকে পটাশিয়াম, সোডিয়াম , লবণ , ও ম্যাঙ্গানিজ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে থাকে।যা আমাদের শরীরকে করে তুলে আরো স্ট্রং ও সুঠাম।

চার নম্বর হচ্ছে মাখন, রাসুল পাক সাঃ এর পছন্দের খাদ্য গুলোর মধ্যে চতুর্থ স্থানে রয়েছে মাখন।  বসলিআর সুলআমিনের দুই পুত্র বলেন আমাদের কাছে আগমন করলেন। অতঃপর আমরা মাখন ও খেজুর উপস্থাপন করলাম কারণ তিনি মাখন ও খেজুর সবচেয়ে বেশি পছন্দ করতেন। মাখন হচ্ছে উট মহিষ গরু ছাগলের দুধের বিশেষ অংশ।মূলত দুধ অনেক ঝাকুনির ফলে মাখন তৈরি করা হয়।মাখনে বিভিন্ন গুণাগুণ রয়েছে এবং এতে দুধের উপকারিতা ও বিদ্যমান। যেহেতু এতে অনেক চর্বি থাকে তাই এটি তাপ শক্তি বৃদ্ধির অধিক সহায়ক হয়ে থাকে ।অধিক ঝাঁকুনির ফলে তৈরী বলে এটি চিকিৎসা ক্ষেত্রে খুবই উপকারী।  এটিই রক্তের শিরাগুলো কে শক্তিশালী করে। দুরারোগ্য কাশি কমাতে সহায়তা করে এছাড়াও ফোঁড়া সারাতে এটি কার্যকরী ভূমিকা রাখে।

মাখন  জয়েন্টএর শক্ত হয়ে যাওয়া প্রতিরোধ করে। সেই সাথে আর্থাইটিস ও প্রতিরোধ করে। এছাড়া এই উপাদানটি প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম যুক্ত হওয়ায় হাড় শক্ত ও মজবুত করে। মাখনের এত এত উপকারিতা থাকা সত্ত্বেও চিকিৎসকরা পরিমাণমতো খেতে পরামর্শ দিয়ে থাকেন। কারণ এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে চর্বি রাসূল সাল্লাল্লাহু সালামের কিন্তু পছন্দ করতেন।

তৃতীয় হচ্ছে লাউ বা কদু। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রিয় খাবার গুলোর মধ্যে তৃতীয় স্থানে রয়েছে সেটি হল লাউ বা কদু। ইতিপূর্বে আমরা যে দুটি খাবার নিয়ে আলোচনা করেছি তা ছিল ফ্যাট বা চর্বি যুক্ত।লাউ বা কদু হচ্ছে সবজির আইটেমের মধ্যে। রাসূল সাল্লাহু সাল্লাম এর সবচেয়ে প্রিয় খাবার আমি নিশ্চিত বাঙ্গালীদের অনেকেই সবজির মধ্যে লাউ অনেক পছন্দ করেন। যে খাবারটি আমাদের দেশে জনপ্রিয় সহজলভ্য একটি সবজি।

আনাস রাদিয়াল্লাহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম  লাউ পছন্দ করতেন। তার এক বন্ধুর নিকট আসলেন ।সে নিয়ে আসলো লাউ অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা দেখতে লাগলেন। সে ব্যক্তি বলেন আমি লাউ খেতে পছন্দ করতাম যেদিন থেকে রাসূল সাল্লাল্লাহু সাল্লাম কে খেতে দেখেছি। ইবনে কাইয়িম রঃ বলেন; মধুবালা ওকে আরবিতে ইয়াকতিন বলা হয়। যা হলো কোমল ও পানীয়। এটা এমন সতেজ যারা গরমে আক্রান্ত তাদের উপকার করে। এছাড়া এটি প্রবল মাথাব্যথা তে বিশেষভাবে উপকারী। যখন তা পানি ও খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা হয় অথবা তারা মাথা দ্রুত করা হয়। যেভাবে ব্যবহার করা হোক না কেন তা পেটকে শীতল রাখে। গরমে আক্রান্তদের এর চেয়ে দ্রুত উপকারের ব্যবস্থা আর নেই।

এছাড়া কুদুর পানি টিউমারের ক্ষেত্রে উপকারী এবং তীব্র জ্বরে আক্রান্ত লোকদের এটি অত্যন্ত উপকার করে থাকে কেননা তা ভিটামিন এ এর একটি ভালো উৎস এবং ওজন অনুসারে তার 90.7 শতাংশ পানি 1.2 শতাংশ চর্বি এবং 1.1 শতাংশ প্রোটিন রয়েছে. এছাড়া রয়েছে 6.4% এবং লৌহ ও চুনের পরিমাণ রয়েছে যথেষ্ট পরিমাণ। সবকিছু ছড়িয়ে কদুতে যে উপকারিতা রয়েছে তা হলেও এর বীজ একমাত্র পরিপূর্ণ ঔষধ যা পাকস্থলীর টিউমার দূর করতে বিশেষ ভূমিকা রাখে। তাই যখনই আপনারা লাউ রান্না করবেন অবশ্যই বীজগুলো ফেলে দিবেন না। রাসূল সাল্লাল্লাহু সাল্লাম এর গুরুত্ব দিয়েছেন বর্তমান বিজ্ঞান ও তার সমর্থন দিয়েছে।

দ্বিতীয় নম্বর পছন্দের খাবারটি হচ্ছে খেজুর। মহানবী সাল্লাল্লাহু সালামের পছন্দের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে সেটি হলো খেজুর।খেজুর এর কথা বলতে আমাদের মাথায় সৌদি আরবসহ রাসূল সাল্লাল্লাহু সালামের সময়কালের কথা চলে আসে। আবু দাউদ এর একটি হাদিস এ বর্ণনা করেন রাসূলুল্লাহ সবচেয়ে বেশি পছন্দ করতেন খেজুর। অন্য আরেকটি হাদীসে রাসূল সাল্লাল্লাহু সাল্লাম বলেন এমন এক প্রকার গাছ আছে যা মুসলমানদের মতো তা হল খেজুর গাছ। অর্থাৎ মুসলমানরা যেমন বরকত পূর্ণ খেজুর গাছ তেমন বরকতপূর্ণ।কেননা যখন তার ফল হয় তা শুকিয়ে যাওয়া অব্দি খাওয়া যায় এবং শুকিয়ে গেলে দাম উপকারিতা ও স্বাদ বৃদ্ধি পায়।খেজুর এমন একটি খাবার যা সব সময় খাওয়া যায়।শীত গ্রীষ্ম বর্ষা সব ঋতুতে শ্রেষ্ঠ খাবারের মধ্যে খেজুর একটি। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ খাদ্যগুণ। যেমন ভিটামিন বি,সি  আয়রন এবং প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম। যার হৃদপিণ্ড ও রক্তচাপের জন্য খুবই উপকারী আরো রয়েছে ম্যাগনেসিয়াম ও ক্যালসিয়াম অ্যামিনো এসিড। তাছাড়াও মেলাটোনিন হরমোন যা ভালো ঘুম হতে সহায়তা করে। খেজুর খেয়ে পানি খেয়ে শুয়ে পড়ুন আপনার ঘুম চলে আসবে। খেজুর মুহূর্তেই শরীরে শক্তি দেয় শুকনো খেজুরের শতকরা 80% চিনি এবং সে কারণে সরাসরি রক্তে চলে যায় যার কারণে শুকনো খেজুর কে মরুভূমির গ্লুকোজ বলা হয়। এবং খেজুরে যে চিনি রয়েছে এতে আপনার শরীরের ক্ষতি হবে না। বাজারে চিনি ক্ষতি হতে পারে বিশেষজ্ঞদের মতে খেজুরে থাকা উচ্চমাত্রার ভিটামিন বি নার্ভকে শান্ত করে রক্তচাপ কমাতে সহায়তা করে। রয়েছে ভিটামিন কে হারকে মজবুত রাখতে বিশেষ ভূমিকা রাখে। এছাড়াও আরো অনেক উপকারিতা রয়েছে খেজুরে। তবে যাদের মাইগ্রেনের সমস্যা রয়েছে তাদেরকে খেজুর না খাওয়াই ভালো।

রাসুল পাক সাল্লাল্লাহু সালাম এর সবচেয়ে পছন্দের খাবারের মধ্যে এক নম্বর কোনটি।সেটি হচ্ছে মধু। রাসূল সাঃ এর পছন্দের তালিকায় প্রথম স্থান দখল করে নিয়েছে তা হল মধু। মধুর উপকারের কথা স্বয়ং মহান রব্বুল আলামীন পবিত্র কালামে উল্লেখ করেছেন। মহান আল্লাহর সূরা নাহল এর  69 নং আয়াতে বলেন তোমার প্রতিপালক মৌমাছিদের প্রতি নির্দেশ করেছেন এই বলে যে।হে মৌমাছি তুমি পাহাড়ে গাছে এবং মানুষের বসবাস স্থলে বাসা তৈরি করবে। এরপর সকল প্রকার ফল থেকে তুমি আহার করবে এবং তোমার প্রভুর সহজ নিয়ম পদ্ধতি অবলম্বন করবে।

পূর্বে তার পেট থেকে নির্গত হয় বিভিন্ন রঙ্গের পানীয় যাতে রয়েছে মানুষের রোগমুক্তি নিশ্চয়ই এ বিষয়ে চিন্তাশীল মানুষের জন্য রয়েছে বহু নিদর্শন সুবাহানাল্লাহ আল্লাহ।মা আয়েশা রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু বলেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সালাম মিষ্টি ও মধু খুবই পছন্দ করতেন। অন্য আরেকটি হাদীসে রয়েছে প্রিয় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তিনটি জিনিসেে রোগমুক্তি নিহিত। এক বেলটা না। দুই মধু পান করা । তিন আগুনের সেক  দেওয়া। কিন্তু আমার উম্মতকে আগুনের শেক দিতে নিষেধ করা হয়েছে।

প্রতিদিন সকালে এক চামচ মধু খেলে ঠান্ডা লাগা কফ-কাশি ইত্যাদি সমস্যা একেবারেই চলে যায়। এছাড়াও প্রাচীনকাল থেকে গ্রিস ও মিশরের ক্ষত সারাতে মধুর ব্যবহার হয়ে এসেছে 2007 সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক পরীক্ষায় দেখা গেছে অধিকাংশ ক্ষত জখমের উপশমে মধু ডাক্তারি ড্রেসিং এর চেয়েও বেশি কার্যকর।অগ্নি দত্তক ত্বকের জন্য খুব উপকারী।আজকাল ছোটখাটো কাটাছেঁড়া সারাতেও মধু ব্যবহার করতে বলছেন চিকিৎসকেরা।অন্য আরেকটি গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে মধুতে রয়েছে উচ্চশক্তিসম্পন্ন অ্যান্টি মাইক্রোবিয়াল এজেন্ট। এই এজেন্ট শরীরের ক্ষতিকর রোগ জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াই করে।তারুণ্য বজায় রাখতে মধুর ভূমিকা অপরিহার্য।

মধুতে রয়েছে প্রচুর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট যা ত্বকের রং ও ত্বক সুন্দর করে। ত্বকের ভাঁজ পড়া ও বুড়িয়ে যাওয়া রোধ করে শরীরের সামগ্রিক শক্তি যোগায় এবং তরুণ বাড়ায়। এছাড়াও দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে দেহেরতাপ উৎপাদনের, যৌন দুর্বলতায়, হজমের ঔষধ সহায়তা করে থাকে এই মধু। এছাড়াও মধু নিয়ে বিভিন্ন গবেষণা করেছে বর্তমান চিকিৎসা বিজ্ঞান।

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button
Close