ইসলামিক

মানুষের যে কাজে শয়তান সবচেয়ে বেশি মজা পায়! জানলে অবাক হবেন!

আসসালামুআলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ। সুপ্রিয় দর্শক মন্ডলী আশা করি আল্লাহ তাআলার অশেষ মেহেরবানীতে আপনারা সবাই ভাল আছেন। তোমার কোন কাজে ইবলিশ যদি কখনো পায় মজা তাহলে তুমি নিশ্চিত হও জাহান্নামই হবে তোমারি সাজা। আজকে আমরা আলোচনা করব শয়তান মানুষের কোন কাজে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে মজা পায় এবং আনন্দ পায় ।  মানুষের কারণে যখন ইবলিসকে জাহান্নামী ঘোষণা করা হয়েছিল তখন সেও শপথ করেছিল আমি কিন্তু একা একা জাহান্নামে যাবো না। আল্লাহ মানুষকে ও আমার সঙ্গী বানাবো আর সেই শপথের জন্য শয়তান ইবলিশ তার বাহিনী নিয়ে সদা সর্বদা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

আল্লাহর তরফ থেকে প্রাপ্ত ক্ষমতার অপব্যবহার করে সেই কাজটি করছে। তারা মানুষকে বিভিন্নভাবে পাপ করার।  জিনার মাধ্যমে মাধ্যমে পাপ করা শির্ক করিয়ে পাপ করা চুরি করে পাপ করা, গীবত করে পাপ করায় হত্যার মাধ্যমে পাপ করায়।সুদ ঘুষ এর মাধ্যমে পাপ করার, হারাম খাদ্য খাওয়ার মাধ্যমে পাপ করায় ,নামাজ ছাড়ার মাধ্যমে পাপ করায়, হারাম আয় এর মাধ্যমে পাপ করায়।কিন্তু আপনি কি জানেন শয়তান মানুষকে যে বিভিন্ন কাজের মাধ্যমে পাপ করায় তার জন্য কোন কাজে শয়তান ইবলিশ বেশি মজা পায়।

সেই কাজটি বলার আগে রাসূল সাল্লাল্লাহু ওয়া সাল্লাম এর একটি হাদিস আপনাদের সামনে উল্লেখ করছি সহিহ মুসলিমে বর্ণিত হযরত জাবের রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু বর্ণনা করেন। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন ইবলিশ শয়তান প্রতিদিন নিজ সিংহাসনে উপবিষ্ট হয়ে তার  অনুসারীদের খোঁজখবর নেন এবং সেখান থেকে তার সেনাবাহিনীকে এই নির্দেশ দিয়ে বের করে নেন যে তোমরা মানুষকে বিভ্রান্ত করাও খারাপ করা গুনাহ করাও। তখন তার বাহিনী তার দায়িত্ব পালনের জন্য বেরিয়ে পড়ে।

আবার দিনশেষে সিংহাসনে ফিরে আসে তখন শয়তানের সরদার ইবলীস তার শাগরেদ দের কাছ থেকে জানতে চায় কে কি কাজ করতে পেরেছে। কে কি গুনাহ করাতে পেরেছে মানুষকে কে কিভাবে কতটা বিভ্রান্ত করতে পেরেছে। কতবার মানুষকে বিভ্রান্ত করতে পেরেছে। কত জন মানুষকে বিভ্রান্ত করতে পেরেছে কতজনকে জাহান্নামের টিকিট ধরিয়ে দিয়েছে। এভাবে সেনাদের কাজ থেকে রিপোর্ট পেতে চায়। তখন একজন শয়তান বলে হে মহারাজ ইবলিশ আমি একজনকে জিনা করিয়েছি। তখন ইবলিশ বলে কাজের কাজ কিছুই করতে পারোনি। ওই ব্যক্তি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইবে কান্নাকাটি করবে তখন আল্লাহ মহান তাকে মাফ করে দিবেন।আরেক শয়তান এসে বলেন আমি একজনকে আরেকজন মানুষকে হত্যা করিয়েছে। তখন ইবলিশ বলে তুমি উল্লেখযোগ্য কিছুই করতে পারেনি ওই ব্যক্তি যদি আল্লাহর কাছে তওবা এবং মৃত ব্যক্তির পরিবারের কাছে ক্ষমা চায় তখন তারা যদি ক্ষমা করে দেয় তাহলে সবই মাফ হয়ে যাবে। তুমিও উল্লেখযোগ্য কিছুই করতে পারোনি।

আরেক শতাংশ বলে আমি একজনকে দিয়ে চুরি করিয়েছি। ইবলিশ বলে তুমি উল্লেখযোগ্য কিছুই করতে পারোনি। আরেক শয়তানি সে বলে হুজুর আমি একজনকে তার মা-বাবার নাফরমানী করিয়েছি তখন ইবলীস বলে কিছুটা করেছ তবে তেমন কিছুই নয় । যদিও পিতা-মাতার নাফরমানি করা কবিরা গুনা তারপর বলে তুমি ভালো কিছু করতে পারোনি কারণ ছেলে মেয়ের প্রতি পিতা-মাতার একটি দুর্বলতা আছে সুতরাং পরবর্তীতে পিতা-মাতা যখন তার সন্তানের জন্য দোয়া করবে ক্ষমা করে দিবে তখন মহান আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিবেন । আর এক শয়তান সর্বশেষে এসে বলল আমি একটি মহৎ কাজ করেছি তখন ইবলীস বলল কি করেছ। তখন সে বলল আমি এক দম্পতির মাঝে বিচ্ছেদ ঘটিয়ে এসেছি।

স্বামী স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটিয়ে এসেছি ঝগড়া বাধিয়ে দিয়ে তাদের মধ্যে চিরস্থায়ী বৃষ্টি করে দিয়ে এসেছি এবং তালাক করে ছেড়েছি তখন ইবলীস তাকে বলে আমতা আমতা আমতা অর্থাৎ তুমি তুমি আমার শ্রেষ্ঠ শয়তান। কাজের মতো কাজ করতে পেরেছ তোমাকে পুরস্কৃত করা হবে, তোমার মাথায় তাজ দেওয়া উচিত । কেননা স্বামী-স্ত্রী বিচ্ছেদ হয়ে যাওয়ার পরে আল্লাহর বিধান অনুযায়ী তারা একত্রিত হতে পারবে না যতদিন না তাদের উভয়ের ভিন্ন ভিন্ন বিবাহ সুতরাং এদের মাধ্যমে তাদের সন্তান এবং তারা বিপথগামী হয়ে গেল। চিরস্থায়ী একটি ধ্বংসের পথ সৃষ্টি করে দিয়েছে এবং এটি তোমার জন্য শ্রেষ্ঠ কাজ।  এ হাদিস থেকে বোঝা যায় যে ইবলিশ সরদার ওই ব্যক্তিকে পুরস্কার দেয় যে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটায়। ইবলিশ সবচেয়ে মজা পায় যখন সে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটিয়ে দেয় এবং সংসারকে ভেঙে দেয়। একটা ফ্যামিলি কে নষ্ট করে দিয়ে ইবলিশ যত মজা পায়, আর অন্য কোন পাপে শয়তান এত মজা পায় না।

এর কারণ হলো, যখন ব্যক্তি জিনা করে , নামাজ ছাড়ে, সুদ খায় , ঘুষ খায় , গীবত করে তখন সে ব্যক্তি নিজের নাফসের উপরে ক্ষতি করে ।পুনরায় সে আবার তওবা করে ফিরে আসে। আর যখন কোন দম্পতির মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটে যায় তখন কয়েকটা জীবন ধ্বংস হয়ে যায়, সব ধুলোয় মিশে যায়। এমনকি স্বামী-স্ত্রী উভয়ে বিভিন্ন ভাবে জড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এজন্য শয়তান যখন কোনো দম্পতির মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটাতে পারে ইবলিশ শয়তান সবচেয়ে বেশি খুশি হয়।

এজন্য আমাদের উচিত সব সময় সজাগ থাকা যাতে ইবলিশ যেন কোনভাবেই আমাদের মধ্যে কোনো সুযোগ না নিতে পারে। যদিও তালাক দেওয়া ইসলামে জায়েজ, কিন্তু এটি হচ্ছে ইসলামের মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট জায়েজ কাজ। হাদিসে আছে তালাক দিলে আল্লাহর আরশ কেঁপে ওঠে। আল্লাহর নিকট সবচেয়ে নিকৃষ্ট হালাল কাজ হচ্ছে তালাক দেওয়া। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সঠিকভাবে আমল করার তৌফিক দান করুন ।। আমিন ।

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button
Close