ইসলামিক

জুমার নামাজ মিস হয়ে গেলে কি করবেন?

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ । সুপ্রিয় দর্শক মন্ডলী আশা করি আল্লাহ তায়ালার অশেষ মেহেরবানীতে আপনারা সবাই ভাল আছেন। জুমার নামাজ মিস হয়ে গেলে কি করবেন?

আলহামদুলিল্লাহ ভাই জুমার নামাজ সাপ্তাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নামাজ। জুমার নামাজে দুই রাকাত নামাজ এবং দুটি খুতবা রয়েছে। কেউ যদি খুতবা মিস করে এবং নামাজ দুই রাকাত মিস করে তাহলে সেই ব্যক্তি আর জুমার নামাজ নেই।

ওই দিন তিনি জোহরের নামাজ পড়বেন। জুমার নামাজ পড়তে হলে নূন্যতম এক রাকাত নামাজ পেতে হবে। আর রাকাত পাওয়া টি যেহেতু রুকু থেকে সাব্যস্ত হয়, অতএব কারো যদি দ্বিতীয় রাকাতে রুকু ছুটে যায় তাহলে তিনি হয়তো সামিল হবেন অর্থাৎ নামাজ পড়ে নিবেন অন্তত দ্বিতীয় রাকাতের শেষ পর্যন্ত সালাম এর আগেও যদি পান নামাজে শরিক হবেন।

কিন্তু এই নামাজই যথেষ্ট হবে না, এরপর নামাজ শেষ করে তিনি জোহরের চার রাকাত নামাজ আদায় করবেন। অথবা যদি একান্তই নামাজ না পান তাহলে তিনি আলাদা জোহরের নামাজ পড়ে নেবেন একাকী জুমার নামাজ পড়তে পারবেন না এবং এই নামাজের কাজা নামাজ হবেনা বা পড়তে পারবেনা।

এই দিন এমন একটি আল্লাহ পাকের নিয়ামত, যে কেউ যদি নামাজ একবার মিস করে ফেলে তিনি আজীবনের জন্য মিস করে ফেললেন। এটি গরিবের হজের দিন, এই দিনে মহান আল্লাহ তাআলা এই পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন আদম হাওয়াকে সৃষ্টি করেছেন, আদম হাওয়া কে জান্নাত থেকে দুনিয়াতে পাঠিয়েছেন।

এই দিনকে আল্লাহ রব্বুল আলামিন বিশেষ দিন বলে পবিত্র কোরআনে একটি পূর্ণাঙ্গ সূরা নাযিল করেছেন। ( সূরাতুল জুমা ) এই দিনটি এতটা বৈশিষ্ট্যমন্ডিত এবং এই দিনের বৈশিষ্ট্যের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে জুমার নামাজের 2 রাকাত ফরজ নামাজ এবং খুতবা। কেউ যদি এই খুতবা এবং জুমার নামাজ মিস করেন তাহলে আর জীবনে তার এই নামাজ  ফিরে পাওয়ার সুযোগ নেই।

আপনি সর্বোচ্চ শুধুমাত্র জোহরের নামাজ কাজা করতে পারেন তাই কখনোই জুমার নামাজ মিস করবেন না। জুমার নামাজে আপনারা অনেকেই খুতবা পর্যন্ত মিস করে ফেলেন এই কাজটি করবেন না জুমার নামাজের 2 রাকাত নামাজের পাশাপাশি  খুতবা ও কিন্তু ওয়াজিব।

জুমার নামাজের আগে খুতবা পাঠ নামাযেরই অংশবিশেষ তাই খুতবা আরবীতে পাঠ করতে হয়। তবে খুতবা পাঠ এর আগে ইমাম সাহেবরা মাতৃভাষায় খুতবা মূল বক্তব্য টুকু বলে দিলে সবাই ধর্মের প্রতি বিশেষভাবে মনোযোগী হতে পারবে।

যেহেতু জুমআর দিন অনেক মানুষের সমাগম হয় তাই এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে জুমার খুতবার আগে সমাজে প্রচলিত অন্যায়-অবিচার চুরি ডাকাতি ছিনতাই রাহাজানি সুদ ঘুষ দুর্নীতি সন্ত্রাস জঙ্গিবাদ হত্যাকাণ্ড ইত্যাদি সামাজিক অনাচারের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে এবং প্রতিরোধ গড়ে তুলতে আহ্বান জানাতে হবে।

এছাড়াও গরিব মিসকিন আত্মীয়-স্বজন অভাবগ্রস্ত পাড়া-প্রতিবেশী অভুক্ত অনাহারী আর্ত-মানবতার সেবায় এগিয়ে আসতে সমর্থকদের সহযোগিতার দিকনির্দেশনা প্রদান করা যেতে পারে। এ ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে ইসলামের প্রকৃত মর্মবাণীর সঠিক ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ আদর্শ জাতি গঠনে ও সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পারেন। সুতরাং আমরা কেউ জুমার দুই রাকাত নামাজ মিস করবো না খুতবা ও মিস করবো না।

অবশ্যই আমরা জুমার নামাজে আগেভাগেই মসজিদে চলে যাব। কেননা আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেছেনঃ হে মুমিনগণ জুমআর দিনে যখন নামাযের আযান দেয়া হয় তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের ছুটে যাও এবং কেনাবেচা বন্ধ করো। সূরা জুমা আয়াত 9।

সুতরাং নামাজের আযান দেওয়া মাত্রই মসজিদে গমন করবেন। কোনভাবেই যেন নামাজ মিস না হয়ে যায় সেদিকে লক্ষ্য রাখবেন। মনে রাখবেন পরপর তিনটি জুমা মিস করলে আল্লাহ রব্বুল আলামীন আপনার দিলে মোহর মেরে দিবেন এবং আপনার দিলকে ইসলাম থেকে সরিয়ে দিবেন। আপনি হয়তো বা কপালপোড়া দের অন্তর্ভুক্ত হতে আমরা কেউই চাইনা। আমরা যেন মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের অন্যতম বিধান গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করি এবং এই গরিবের হজের দিনকে এবং পৃথিবীর সৃষ্টির এই দিনটিকে ইবাদত-বন্দেগীর মাধ্যমে উদযাপন করি এবং জুমার নামাজের খুতবা এবং নামাজ যেন কোনভাবেই মিস না হয়ে যায় আল্লাহ রব্বুল আলামীন আমাদের প্রত্যেকটি ভাই এবং বোনকে এর উপর আমল করার তৌফিক দান করুক। আমিন।

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button
Close