ইসলামিক

আপনার নিজের চরিত্রে জাহান্নামী দের লক্ষণ আছে কিনা পরীক্ষা করে নিন!!

আছে কিনা পরীক্ষা করে নিন!!আসসালামুআলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ দর্শক মন্ডলী আশা করি আপনারা সবাই ভাল আছেন।আমরা কেউ জাহান্নামে যেতে চাই না যারা একবার পড়েছিল ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ আমরা বিশ্বাস করি বোখারী শরীফের হাদিস এর মতে যে ব্যক্তি লা-ইলাহা-ইল্লাল্লাহ পড়েছে যে ব্যক্তি অবশ্যই জান্নাতে যাবে। কিন্তু মনের অজান্তে আজকের মুসলমান হাজারো গুনাহে লিপ্ত রয়েছে।অনেক মুসলমান আমল করার পরেও তাদের চারিত্রিক দোষ ত্রুটির কারণে তারা জানে না যে তারা জাহান্নামের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। আপনার চরিত্রের জাহান্নামীদের লক্ষণ আছে কিনা আজকের এই ব্লক থেকে জেনে নেয়ার চেষ্টা করুন। ইনশাল্লাহ  ব্লগটি শেষ পর্যন্ত পড়ার অনুরোধ করছি।

রাসুল সাঃ বলেছেন মুমিন কখনো দোষারোপ করি হয়না অভিসম্পাত করেনা অর্থাৎ অভিশাপ দেয় না অশ্লীল কাজ করে না এবং কটুভাষী হয় না। রাসুল সাঃ  আরো বলেছেন মমিন হয় সরল ও ভদ্রতা পক্ষান্তরে পাপীষ্ঠ হয় পক্ষান্তরে পাপিষ্ট হয় ধূর্ত ও দুশ্চরিত্র বান।

সুতরাং কথায় কথায় অভিশাপ দেওয়া অশ্লীল বাক্য আলাপ না করা এবং অত্যন্ত কঠোর ভাষায় মানুষের সাথে কথা না বলা। অনেক আমলিক ব্যক্তিবর্গ কে অনেক হাজীকে অনেক নামাযী কেও  এই গুনাহর সাথে জড়িত থাকতে দেখা যায়। আল্লাহ আমাদের মুসলিম ভাইদেরকে থেকে দূরে রাখুক। তিনি আরো বলেন আমি কি তোমাদের জাহান্নামিদের সম্পর্কে অবহিত করব না তারা হল ঘুরো স্বভাবে কঠিন হৃদয় এবং অহংকারী।

অর্থাৎ মানুষের মধ্যে অত্যন্ত কঠোর স্বভাব দেখা যাবে। যে ব্যক্তির সাথে সাধারণ পাড়া-প্রতিবেশী কথা বলতে ভয় করে। সে যত ভালো মানুষই হোক তার মধ্যে জাহান্নামের একটি স্বভাব ইতিমধ্যেই লক্ষণীয় হয়ে গিয়েছেন।অন্য বর্ণনায় রাসূল সাঃ  বলেছেন আমি কি তোমাদের জাহান্নামীদের সম্পর্ক করব না।তারা হল বদমেজাজী কুখ্যাত এবং অহংকারী। তিনি আরো বলেন জাহান্নামিরা হলো অবাধ্য বদমেজাজী ও অহংকারী।

তিনি আরো বলেন জাহান্নামীরা হলো অবাধ্য বদমেজাজী ও অহংকারী রাসূল সাল্লাহু সাল্লাম বলেছেন, জান্নাত ও জাহান্নাম পরস্পর বিতর্কে লিপ্ত হলে জাহান্নাম বলবে প্রভাবশালী ও দাম্ভিকদের দ্বারা আমাকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে।একমত আজকের সমাজে প্রভাব বিস্তারের জন্য মানুষ কতই না রাস্তা কতই না অবৈধ পন্থা অনুসরণ করে। মানুষ প্রভাব বিস্তারের জন্য একজন আরেকজনকে গোপনে কিনে ফেলে। বিচারে জয়লাভ করার জন্য গোপনে বিচারককে উপঢৌকন প্রদান করে অথচ এই সকল দাম্ভিক এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিরা যারা কিনা অর্থের লোভে অর্থের শক্তিতে সমাজে প্রভাব বিস্তার করে অসহায়দের উপর জুলুম করেছে তাদেরকেই জাহান্নাম সবার আগে কাছে ডেকে নিবে। তিনি আরো বলেন দুশ্চরিত্র স্বভাবের মানুষ জান্নাতে প্রবেশ করবে না অর্থাৎ চোগলখোর জান্নাতে প্রবেশ করবে না।

যে গোপনে একজনের কথা আরেকজনকে বলে বাড়ায় কথা বাড়িয়ে বলে হাসকে মাস বানায় সমাজের মধ্যে গুজব রটিয়ে বেড়ায়। সেই সকল ব্যক্তি রাসূল সাল্লাহু সাল্লাম বলেছেন জান্নাতে প্রবেশ করবে না। তিনি আরো বলেন আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না । যার অনিষ্ট থেকে তার প্রতিবেশী নিরাপদ থাকে না সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না।সেই ব্যক্তি প্রকৃত মুমিন হতে পারে না যার হাত ও জিহ্বা থেকে অপর মুসলমান নিরাপদ নয়। অথচ আমাদের এমন অনেক প্রতিবেশী আছে যাদের ভয়ে সদা বিহ্বল থাকে মানুষ ।যে কখন তার মুখ ফুটে আর কখন না আজেবাজে কথা বলে বেড়ায় এবং আমার মান সম্মানের ক্ষতি করে । অনেক মানুষ রয়েছে সমাজের মধ্যে যাদের মুখে মানুষ অনেক ভয় পায় যাদের জিব্বা প্রতি তাদের ভয় বেশি। কেননা একবার যদি তারা গালিগালাজ শুরু করে অথবা কুৎসা রটনা শুরু করে তবে তাদের যারা অন্যের মান-সম্মানের ক্ষতি হয়। এ সকল ব্যক্তিরা কখনোই মুসলমানই নয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে । যাদের জিব্বা এবং হাত থেকে অপর মুসলমান নিরাপদ নয় যার অন্তরে অনু পরিমাণ অহংকার থাকবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম আরও বলেন তিন ধরনের ব্যক্তির সাথে কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা কথা বলবেন না। তাদের গুনাহ থেকে পবিত্র করবেন না। তাদের প্রতি তাকাবেন না আর তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি। তারা হলো বৃদ্ধ জেনাকারী ও জিনাকারিনী,মিথ্যাবাদী বাদশা ও অহংকারী দরিদ্র ব্যক্তি। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম  আরো বলেছেন তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিরা আমার নিকট ঘৃণ্য ও কিয়ামতের দিন আমার থেকে দূরে অবস্থান করবে। তারা হলো বাচাল নির্লজ্জ ও মোতাফাইকুন। সাহাবীগণ বললেন বাঁচালো নির্লজ্জ তো বুঝলাম কিন্তু মোতাফাইকুন কারা। হে আল্লাহর রাসূল বললেন তিনি বললেন, অহংকারি।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম বলেছেন কেয়ামতের দিন আল্লাহর কাছে ঐ ব্যক্তি নিকৃষ্ট স্তরের বলে গণ্য হবে যাকে লোকজন তার দুর্ব্যবহারের জন্য পরিত্যাগ করেছে। তিনি আরো বলেছেন নিশ্চয়ই সবচেয়ে নিকৃষ্ট সেই। যার অশালীনতা থেকে বেঁচে থাকার জন্য মানুষ তার সংশ্রব ত্যাগ করেছে। আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু হতে বর্ণিত রাসূল বলেন তোমরা কি জানো  ও অভাবী কে? সাহাবীগণ বললেন, আমাদের মধ্যে তো সেই অভাবী যার টাকা পয়সা ও অর্থ সম্পদ নেই।রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম বললেন কিয়ামতের দিন আমার উম্মতের মধ্যে সেই সবচেয়ে বেশি অভাবী হবে যে দুনিয়াতে সালাত সিয়াম যাকাত আদায় করে আসবে এবং সাথে সাথে সেই লোকেরাও আসবে। যারা কিনা এ সকল কাজ করার পাশাপাশি কাউকে গালি দিয়েছে কাউকে নিয়ে অপবাদ দিয়েছে কারো সম্পদ আত্মসাৎ করেছে অথবা কাউকে হত্যা করেছে।

আল্লাহ রব্বুল আলামীন জাহান্নামীদের সকল স্বভাব ত্যাগ করে জান্নাতীদের স্বভাবগুলো অর্জন করার তৌফিক দান করুক সর্বক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু সাল্লাম এর অনুসরণ অনুকরণ এবং তার দেখানো পথে আমল করার তৌফিক দান করুক আমিন।

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button
Close