ইসলামিকজীবন - মৃত্যু - জীবন

কেমন হবে আপনার মৃত্যু? (জীবন – মৃত্যু – জীবন, পর্ব ২ – মৃত্যু)

ঘুম থেকে ওঠার পর স্বপ্নের জগৎকে যেমন ঝাপসা মনে হয় বাস্তব জীবনকে মনে হয় সত্য মৃত্যুর পর আপনার মনে হচ্ছে দুনিয়ার জীবনটাই ছিল একটা স্বপ্ন যা আপনি ঘুমন্ত অবস্থায় কাটিয়েছিলেন। ফেরেশতাদের সাথে অলৌকিক সব অভিজ্ঞতা হবার পর এখন আপনি ফিরে এসেছেন আপনার কবরে। আপনাকে মাটি দেয়া হয়ে গেছে, আপনি শুনতে পাচ্ছেন আপনার  আপনজনেরা দোয়া করছে জিকির করছে আপনাকে ছেড়ে যেতে চাচ্ছেনা কিন্তু আপনিও জানেন তারাও জানে আপনাকে ছেড়ে যেতে হবে। প্রত্যেক মানুষকেই তার ব্যক্তিগত পথ পাড়ি দিতে হবে। কবরস্থান থেকে শেষ মানুষটির প্রস্থান করার পদধ্বনি আপনার কানে পৌঁছায়। এরপর সব নিশ্চুপ, একটি মুহূর্ত পার হলো না সারা দিন পার হলো তা বোঝা গেল না, কারণ এ জগতে সময়ের হিসাব মিলানো কষ্ট। হঠাৎ করেই আপনি অনুভব করলেন আপনার কবরটা ছোট হয়ে আসছে মাটি আপনাকে চেপে ধরছে। চিত্কার করার আগেই মাঠে আপনাকে ভাবে চেপে ধরলো ।আপনার মনে হলো আপনার দেহের প্রতিটি অঙ্গ মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে।

এর পরেই আপনাকে মাটি ছেড়ে দিল, এটা কি কবরের আজাব ছিল আপনি কি তাহলে শাস্তি পাওয়া মানুষদের দলে। আপনার মনে পরল রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম এর সেই কথাগুলো, তিনি বলেছিল মাটির এই চাপ থেকে যদি কেউ   বেঁচে যেত সে হত সা’দ ইবন মূ’আয (রঃ)। যেই সা’দ ইবন মূ’আয (রঃ) এর মৃত্যুতে আল্লাহর আরশ কেঁপে উঠেছিল ।যেই সা’দ ইবন মূ’আয (রঃ) এর জানাযায় শরিক হতে 70 হাজার ফেরেশতা পৃথিবীতে নেমে এসেছিল। সেই সা’দ  ইবন মূ’আয কে ও মাটি চেপে ধরেছিল।

কারণ এটাই আল্লাহর হুকুম মাটি থেকে এসেছি আমরা মাটিতেই ফিরে যাব। এরপর আপনাকে উঠিয়ে বসানো হলো এবং দেখতে ভয়ংকর দুজন ব্যক্তি আপনার সামনে হাজির হল। মুনকার ও নাকির কাউকে সান্তনা দেয় না তারা নম্রভাবে কথা বলে না তাদের কর্তব্য একটাই তারা আমাদের পরীক্ষা করবে। অজুহাত দেয়ার কোনো সুযোগ নেই ।তারা আপনাকে দেখে বলল মান-রববুক তোমার রব কে, তাদের চেহারা দেখে আপনি ভেবেছিলেন হয়তো আপনার গলা দিয়ে কোন শব্দই বের হবে না। কিন্তু যে আল্লাহকে সারা জীবন বিশ্বাস করেছেন যে আল্লাহর আদেশ সারা জীবন সাধ্যমত পালন করার চেষ্টা করেছেন যে আল্লাহর আদেশ অমান্য করার পর তার কাছেই মাথা নিচু করে ক্ষমা চেয়েছেন। সেই আল্লাহর পরিচয় জানতে যাওয়ার পর আপনি কি করে চুপ থাকেন। ঠোট  আর জিব্বা আপনার মস্তিষ্কের অপেক্ষা করেই বলে উঠলো আমার রব আল্লাহ। এরপর তারা প্রশ্ন করল তোমার দিন কি? আপনি বললেন আমার দ্বীন ইসলাম। অবশেষে তারা প্রশ্ন করল তোমার কাছে যাকে পাঠানো হয়েছিল তার ব্যাপারে তুমি কি জানো?

তার নাম উচ্চারণ করতে গিয়ে মুখে হাসি ফুটে গেল ।আপনি বললেন তিনি হচ্ছে আল্লাহর বান্দা আল্লাহর  পেরিত রাসুল, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি আল্লাহ ছাড়া কোন মাবুদ নেই এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর বান্দা  এবং প্রেরিত রাসুল। সাথে সাথেই তারা বলে উঠলো তুমি সত্য বলেছ।

সাথে সাথেই আপনার কবরটা প্রশস্ত হয়ে যেতে থাকে, দেখতে না দেখতেই আপনার খবরটা বিরাট আকৃতি ধারণ করে। এরপর আপনার সামনে একটি চিত্র তুলে ধরা হয়। এটাকি কোন ভিডিও নাকি তারচেয়েও আধুনিক প্রযুক্তি তা আপনার জানা নেই। সেটা নিয়ে ভাবার কোনো সুযোগ নেই আপনি হতভম্ব হয়ে দেখতে পেলেন সেখানে একটি ভয়ানক জায়গা দেখানো হচ্ছে। যেখানে চারিদিকে দাউদাউ করে আগুন জ্বলছে এবং হিংস্র সব জীব কারো জন্য অপেক্ষা করছে।

আপনাকে জানানো হলো এটাই আপনার গন্তব্য হয়ে যেত যদি আপনি আল্লাহর আদেশ অমান্য করতেন কাফের হয়ে আপনার জীবন  কাটিয়ে দিতেন। এরপর অন্যদিকে আরেকটি চিত্র তুলে ধরা হলো এবং আপনি আপনার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর চিত্র দেখতে পেলেন। যার দিকে কাটিয়ে মাসের পর মাস কাটিয়ে দেওয়া যায়। আপনাকে বলা হলো এটাই ওবে আপনার সর্বশেষ গন্তব্য স্থল এটাই হলো জান্নাতের সেই ঘর যার জন্য আল্লাহ আপনাকে সৃষ্টি করেছেন।

এবং যেখানে আপনি শীঘ্রই ফিরে যাবেন। এই মনমুগ্ধকর দৃশ্য দেখতে দেখতে আপনার কবরের জীবন শুরু হয়। কোন এক পর্যায়ে আপনার সাথে দেখা করতে আসবে আপনার আত্মীয়-স্বজনেরা যারা আপনাকে ছেড়ে অনেক আগে পরকালের পথ পাড়ি দিয়েছিলেন। একবার ভেবে দেখুন কতটা আন্তরিক হবে সেই মিলন যেই মাকে যেই বাবাকে যেই নানা-নানি আত্মীয়-স্বজন দাদা-দাদীকে আপনিও কবর দিয়েছিলেন বহু বছর আগে । বারযাখ এর জীবনে এসে তাদের সাথে আপনার সাক্ষাৎ হবে।

তারা দুনিয়ার জীবনের খবর জানতে চাইবে এবং আপনার সাথে গল্প করবে। গল্প করতে করতে আপনার এক বন্ধুর কথা উঠে যায় তারা বলে ঊমুক কেমন আছে ।তখন আপনি অবাক হয়ে যান আপনি বললেন ঊমুক তো আরো তিন বছর আগেই মারা গেছে তোমরা কি তার দেখা পাওনি। সবাই চুপ হয়ে যায় সবাই বুঝতে পারে আপনার সেই বন্ধুটি ঈমান নিয়ে মৃত্যুবরণ করতে পারেনি। কবরের আজাব থেকে নিজেকে মুক্ত করতে পারেনি।

যে ব্যক্তি ঈমান নিয়ে মৃত্যুবরণ করতে পারল না। কবর থেকে জাহান্নাম পর্যন্ত তার পরিস্থিতি ক্রমাগত খারাপ হতে থাকে। যখন তাকে আসমান থেকে জমিনে ছুঁড়ে ফেলা হয় মাটি তাকে হিংস্রভাবে চেপে ধরে তারপর যখন মুনকার নাকির এসে তাকে  উঠিয়ে বসায় এবং তাকে জিজ্ঞাস করে তোমার রব কে? সে কোন উত্তর দিতে পারে না। আমতা আমতা করতে থাকে কাকে বলা হয় তোমার দিন কি? আবারো সে আমতা আমতা করতে থাকে সে উত্তর দিতে পারে না। তাকে প্রশ্ন করা হয় রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে নিয়ে তার ব্যাপারে সে কি জানে? সে অনিশ্চিত হয়ে বলে আমি শুনেছিলাম লোকে তার ব্যাপারে এই এই বলতো। তখন মুনকার আর নাকির বলবে তুমি মিথ্যা বলেছ।

তাহার মাথায় শক্ত লোহা দিয়ে এমন জোরে আঘাত করা হবে তার চিৎকার শুনতে পারবে আশেপাশে প্রতিটি সৃষ্টি শুধু মানুষ আর জিন ব্যতীত। এরপর তাকে জান্নাতের একটি দৃশ্য দেখানো হবে। তাকে বলা হবে এটাই তার গন্তব্য হতে পারতো যদি সে আল্লাহর আহবানে সাড়া দিতে। তারপর তাকে জাহান্নামের দৃশ্য দেখে বলা হবে সে নিজেই এই  গন্তব্য টি তার নিজের জন্য বেছে নিয়েছে। জান্নাতে সে কি পেতে পারতো জাহান্নামে আর জন্য কি অপেক্ষা করছে তা সরাসরি দেখার পর তাহার মনে অকল্পনীয় অনুতাপ জন্ম নেয়। তার জন্য অন্য কোন শাস্তি না থাকলেও তার জন্য সেই অনুতাপ টাই কবরের আজাব হয়ে যেত।

সেই গন্তব্য আপনার হয়নি আপনি শুয়ে আছেন আপনার প্রশস্ত কবরে। জান্নাতের আলো আলোকিত শুধুমাত্র আপনার  রব এর অসীম রহমত এর কারণে। এই সুখময় আবাসে আপনি অপেক্ষা করতে থাকবেন শুধুমাত্র সেই দিনটির জন্য যেদিন একটি ময়দানে সকলকে একত্রিত করা হবে। কিন্তু আপাতত একটু বিশ্রাম নেওয়া যাক।

 

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button
Close