Health Tipsইসলামিক

ইফতার ও সেহরিতে ২টি খাবার খেতে বলেছেন মুহাম্মদ (সঃ)।

ইফতার ও সেহরি আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ। সুপ্রিয় দর্শক মন্ডলী আশা করি মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের অশেষ মেহেরবানি আপনারা সবাই ভালো আছে।

আজকে আমরা জানব রাসূল সাল্লাহু সাল্লাম সারাদিন রোজা রাখার পর ইফতার এ কি খেতে বলেছেন এবং সেহরি র সময় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম কোন খাবারটি খেতে এবং তার উম্মতে মুহাম্মদীর জন্য কোন খাবারটি খেতে পরামর্শ দিয়েছেন। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন পবিত্র কুরআনে বলেছেন নিঃসন্দেহে তোমাদের মধ্যে রাসুলের জীবন আদর্শ হচ্ছে সর্বশ্রেষ্ঠ জীবনাদর্শন।

চলন শুরুতে জেনে নেই ইফতারিতে যে খাবারটি গুরুত্ব দিয়ে খেতেন।

বিখ্যাত হাদিসগ্রন্থ তিরমিজি শরিফে বর্ণিত- রোজার মাসে রাসুল সা. মাগরিবের আগে কয়েকটি ভেজা খেজুরের মাধ্যমে ইফতার করতেন। ভেজা খেজুর না থাকলে সাধারণ শুকনো খেজুর। এর ব্যতিক্রম হলে কয়েক ঢোক পানিই ছিল রাসুল সা.-এর ইফতার।

হজরত আব্দুল্লাহ বিন আবি আউফা র. সূত্রে বর্ণিত- তিনি বলেন, রোজায় আমরা রাসুল সা.-এর সফরসঙ্গী ছিলাম। সূর্যাস্তের সময় তিনি একজনকে ডেকে বললেন, ছাতু ও পানি মিশিয়ে ইফতার পরিবেশন কর। (মুসলিম শরীফ, ১০৯৯)। বিশ্বনবি মুহাম্মদ সা.-এর ইফতার কত সাদাসিদে ছিল। খেজুর ছাতু আর পানির ইফতার। সাদাসিদে এই ইফতারে রয়েছে তৃপ্তি।আছে অপরকে ইফতার করানোর সওয়াব।

প্রিয় দর্শক বর্তমান বিজ্ঞান বলছে সারাদিন রোজা রাখার পর শরীরের ঘাটতি পূরণ করার জন্য পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ খাবার হচ্ছে পানি এবং খেজুর। নিঃসন্দেহে খেজুর খাওয়ার পরে এক গ্লাস পানি খেলে মানুষের সারাদিনে শরীরে প্রয়োজনীয় মিনারেল এবং ভিটামিন মুহূর্তেই ভরপুর হয়ে পড়ে।

এছাড়াও রয়েছে আরো অনেক উপকার এবং সেগুলো হলো হজম শক্তি বৃদ্ধি করে ও পাকস্থলীর শক্তিবর্ধক করে। খেজুর স্নায়ুবিক শক্তি বৃদ্ধি করে খাদ্যশক্তি থাকায় দুর্বলতা দূর করে।

খেজুর শরীরের রক্ত উৎপাদন করে সারাদিন রোজা রাখার পর খেজুর খেলে হৃদরোগের জন্য উপকার হয় রুচি বাড়ায় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এমন কি সারাদিন রোজা রেখে খেজুর খাওয়ার ফলে মানুষের দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি পায়। এছাড়াও ফুসফুসের সুরক্ষার পাশাপাশি মুখগহ্বরের ক্যান্সার রোধ করে এছাড়াও খেজুরে আছে ডায়েটরি ফাইবার যা কোলেস্টেরল থেকে মুক্তি দেয়।

সুবহানাল্লাহ নিঃসন্দেহে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইসাল্লাম এর জীবন আদর্শই শ্রেষ্ঠ জীবনাদর্শ ।

ইফতারের ফজিলত সম্পর্কে হজরত রাসুল সা. বলেন, কেউ যদি রমজান মাসে কোনো রোজাদারকে ইফতার করায়, আল্লাহ তায়ালা তার গুনাহ মাফ করেন এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তি দান করেন। ইফতার প্রদানকারী একটি রোজার সওয়াব পাবে অথচ রোজা পালনকারীর সওয়াব সামান্য কমানো হবে না। সাহাবিরা বলেন, হে আল্লাহর রাসুল সা., আমাদের এমন সামর্থ নেই যা দিয়ে আমরা কাউকে ইফতার করাতে পারি?

তিনি বলেন, আল্লাহ তাকেও এই সওয়াব দিবেন, যে ব্যক্তি কোনো রোজা পালনকারীকে এক ঢোক দুধ অথবা একটা শুকনো খেজুর কিংবা এক চুমুক পানি দিয়েও ইফতার করাবে আর যে ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে পরিতৃপ্তি সহকারে খাওয়াবে আল্লাহ তাকে আমার হাউজে কাওসার থেকে এমনভাবে পানি পান করাবেন যার ফলে, সে জান্নাতে না পৌঁছানো পর্যন্ত তৃষ্ণার্ত হবে না। (বায়হাকি, মেশকাত : ১৭৪)।

হযরত সালমা রদ্বিয়াল্লাহু সূত্রে বর্ণিত, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমরা খুরমা খেজুর দিয়ে ইফতার করবে। তবে যদি সে খুরমা খেজুর না পাও তাহলে পানি দিয়ে ইফতার করবে কারণ পানি পবিত্র।

হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ এরশাদ করেছেন, তিন ব্যক্তির দোয়া ব্যর্থ হয়ে যায় না এক ইফতারের সময় রোজাদারের দোয়া 2 নেয় বিচারক বাদশাহের দুআ 3 মজলুমের দোয়া।

প্রিয় দর্শক এবার চলুন সেহেরি কথা। হযরত আব্দুল্লাহ বিন হারেস এভাবে বলেন এক রাতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম সেহেরী খাচ্ছিলেন আমি তখন হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম এর নিকট পৌঁছলাম। তিনি বললেন তোমরাও  সেহরি খাও, এতে আল্লাহর বিশেষ বরকত রেখেছেন।  সেহরি পরিত্যাগ করো না।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম সেহেরির সময় কি খেতেন?

হযরত আনাস বলেন, সেহরির সময় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম বলেন আমি রোজা রাখব খাবার দাও। আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম এর সামনে খেজুর পানি পরিবেশন করলাম।

সর্বাধিক হাদিস বর্ণনাকারী সাহাবী হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু বলেন মুমিনের উত্তম সেহরি শুকনো খেজুর ও পানি । রাসূলুল্লাহ সাল্লাম বলেন পানিমিশ্রিত এক চুমুক দুধ বা একটি শুকনো খেজুর অথবা  এক ঢোক পানির মাধ্যমে যে ব্যক্তি কোন রোজাদারকে ইফতার করাবে আল্লাহ তার গুনাহ মাফ করে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিবেন

প্রিয় দর্শক হাদিস থেকে সুস্পষ্ট জানা যায় সেহরিতে রাসূল সাল্লাল্লাহু সাল্লাম সেহরি তে সর্বোৎকৃষ্ট খাবার হিসেবে খেজুরের পাশাপাশি দুধ কে প্রাধান্য দিয়েছেন। তিনি সেহরিতে এক চুমুক দুধকে সর্বোৎকৃষ্ট খাবার বলেছেন।

বর্তমান বিজ্ঞান বলছে সেহরিতে যারা দুধ খায় সারাদিনের রোজায় তারা ক্লান্তি অনুভব করে না। কেননা দুধের মধ্যে উচ্চমানের প্রোটিন মানব শরীরের দীর্ঘত 12 থেকে 15 ঘণ্টা পর্যন্ত এনার্জি বা প্রোটিনের সাপ্লাই দিতে থাকে। যা সারা দিন মানুষকে সতেজ ও শয়তান রাখে। নিঃসন্দেহে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম এর প্রদর্শিত এক চুমুক হতে পারে সেহরিতে সর্বশ্রেষ্ঠ খাবার।

প্রিয় দর্শক সর্বশেষ আমরা বলতে পারি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম এর উম্মত এর জন্য দুটি খাবার রেখে গিয়েছেন ইফতার এবং সেহরীতে।

১. ইফতারে খেজুর যা সর্বশ্রেষ্ঠ খাবার পানির সাথে।

২. সেহরিতে এক চুমুক দুধ  বা এক গ্লাস দুধ।

যা হতে পারে আপনার সারাদিনের শরীরের শক্তি বর্ধক এবং সতেজতার অন্যতম পানিও বিশেষ। আল্লাহ তাআলা আমাদের রাসূল সাল্লাল্লাহু ইসলামের সুন্নাহ অনুসরণ করে সেহরি এবং ইফতার করার তৌফিক দান করুক।  আমিন।…

 

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button
Close