ইসলামিক

আবে হায়াতের পানির সত্যতা এবং খিজির আঃ কেয়ামত পর্যন্ত জীবিত থাকার ঘটনা

আসসালামুআলাইকুম বন্ধুরা আশা করি আপনারা সকলেই ভাল আছেন। আমরা হয়তো আবেহায়াতের পানির নাম অনেক শুনেছি আর যারা শোনেননি তাদের বলে রাখি আবেহায়াতের পানি হল এমন এক পানি যে পানি পান করলে মানুষ কিয়ামত পর্যন্ত জীবিত থাকবে এবং শোনা যায় হযরত খিজির আলাই সাল্লাম নাকি এই পানি পান করে এখনো পর্যন্ত জীবিত আছেন । আসলে কি কথাগুলো সত্য নাকি এগুলো কোন রূপকথার গল্প তাছাড়া কোরআন হাদিস এ ব্যাপারে কি বলে চলুন তাহলে আমরা একটু জেনে আসি।

 

সর্বপ্রথম যেটা বলা দরকার সেটি হলো আল্লাহ তাআলা বলেছেন কুল্লু নাফসিন জাইকাতুল মাউত প্রতিটি জীবকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। তাহলে কি আবেহায়াতের পানি এগুলো কি রূপকথার গল্প আর খিজির আলাইসালাম কি বেঁচে নেই।  চলুন তাহলে আমরা একটু জেনে আসি ইতিহাস এবং আমরা একটি হাদীসও আলোচনা করব নিজের ব্যাপারে আপনাদের কাছে অনুরোধ ঘটনাটি না শুনে বাজে মন্তব্য থেকে বিরত থাকুন এবং ঘটনাটি সম্পূর্ণ শেষে আপনারা কমেন্ট করবেন চলুন তাহলে শুরু করা যাক ।

অমরত্ব লাভের আশায় মানুষ আদিম কাল থেকে আজও পর্যন্ত বিভোর হয়ে আছে। এই নিয়ে আমরা অনেক গল্প শুনেছি এমনকি উপমহাদেশে এ নিয়ে এককালের সবচেয়ে জনপ্রিয় ঘটনাটি ছিল আবেহায়াত আর খাজা খিজির এর ঘটনা । খিজির  আলাইসাল্লাম নিয়ে বর্ণিত হাদীসগুলো কোন বিশুদ্ধতা আছে কি নেই সেটা উল্লেখ করা হবে ঘটনা শেষে । ততটা সময় বরং সাথে থাকুন আর জেনে নিন ঘটনাটি খিজির আলাই সাল্লাম আসলে কে ছিলেন । সেটা নিয়ে নির্ভেজাল কোন বর্ণনা পাওয়া যায় না । কেউ বলতেন নবী ছিলেন কেউ বলতেন রাসুল কেউ বলতেন দাস আবার কেউ কেউ ফেরেশতাও বলেছেন তবে ইসলামী বিসর্জন সকলে এ ব্যাপারে একমত ছিলেন যে আল্লাহর কাছে একজন মানুষ ছিলেন তাই তাকে অলি বলা হয় । কাহিনীর মূল উৎস তা বাড়ির ইতিহাস গ্রন্থ লেখক হলেন আবু জাফর আল জারির তাবারি । তিনি ছিলেন একজন প্রখ্যাত ইসলামী ইতিহাসবিদ ও তাফসীরকারক ।

 

কাহিনীটি এরকম বাদশা জুলকারনাইনের রাজত্বকাল । জুলকারনাইন বিভিন্ন রাজ্য জয় করে উত্তরের খুব ঠাণ্ডা এক দেশে আসলেন । অতিরিক্ত ঠান্ডায় তার অনেক লোক মারা গেল অবশেষে তিনি নিকটের এক শহরে পৌঁছালেন যেখানে তাকে স্বাগতম জানানো হলো । তিনি আর তার লোকেরা সেখানে জায়গা পেল কিছুদিনের জন্য । একদিন এক লোক এলো তার কাছে আর বলল বাদশা আমি শুনেছি ওই সমুদ্রের ওপারে একটি অন্ধকার দেশ আছে যেখানে সারাক্ষণ আধার থাকে । সেখানে গুহায় নাকি আবেহায়াতের ঝর্ণা আছে ওই পানি পান করলে নাকি কিয়ামত পর্যন্ত জীবিত থাকা যায় । আবেহায়াত মানে জীবন বাড়ি জীবন পানি জুলকারনাইন সিদ্ধান্ত নিলেন সেই পানির খোঁজ করতে যাবেন । তিনি তার সাথে প্রায় চার হাজার যুবক নিলেন এবং তাদের বলে দিলেন 40 বছরের উপরে বয়স এমন কেউ যেন তার সাথেএই অভিযানে না যায় । তিনি তার উজির যার নাম হযরত খিজির আলাই সাল্লাম আর এক সভাসদ তৃণার নাম ইলিয়াস তাদের দুজনকে সঙ্গে যেতে বললেন । সাথে অনেক দিনের খাদ্য মজুদ হিসেবে নেয়া হলো তবে যাবার আগে তাদের সতর্ক করা হলো সেই মানবীর এলাকাতে তারা যেন কোনো আগুন সেরকম আলো নিয়ে না জান । কারণ কোহেকাফ হলো  জিনের রাজধানী আর জিনেরা আলো পছন্দ করে না তাই তাদের বলা হল তারা ভুলেও যেন আগুন নিয়ে না যায় । তারা সমুদ্র পাড়ি দিয়ে সেই আঁধারে প্রবেশ করলেন কোহেকাফ নগরী বিশালতা অনুভব করে স্তব্ধ হয়ে গেলেন পার্বত্য এলাকার মাঝে সেই নির্দিষ্ট আবেহায়াত খুঁজে বের করা খড়ের গাঁদায় সুঁচ খোঁজার মতো। জুলকারনাইন তখন বললেন তোমরা দলে দলে বিভক্ত হয়ে যাও এবং আবেহায়াত খুঁজতে থাকো । আর তিনি নিজে একা যাবার সিদ্ধান্ত নিলেন কিন্তু খিজির আর ইলিয়াস এই দুজন একসঙ্গে যাবার সিদ্ধান্ত নিলেন যাবার আগ মুহুর্তে খিজির তখন ইলিয়াসকে বললেন আমার কাছে এখানে দুটো রত্ন আছে এটা ভাল খিন দিতে পারে । তুমি একটা নাও আর আমি একটা নেই । আঁধারে আমরা তাহলে অন্তত একটু আলো পাব হয়তো ঝরনা খুঁজেও পেতে পারি । যেমন কথা তেমন কাজ রত্ন দুটো নিয়ে তারা কোয়েকাফ রাখলেন জুলকারনাইন একদিকে আর তারা অন্যদিকে গেলেন বাকিরাও বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে গেল। আনুমানিক এক সপ্তাহ সময় পার হয়ে গেল বিভিন্ন রাত তারা বিভিন্ন গুহায় কাটাতে থাকলেন আর অন্য কোন দলের সাথে তাদের দেখা হলো না । একদিন ক্লান্ত হয়ে এক গুহায় আশ্রয় নিলেন তারা দুইজন এরপর খাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিলেন। শুকনো মাছ বের করলেন তখন পাশের একটি ঝরনায় হাত ধুয়ে আসলেন এরপর মাছটা দুভাগ করতে হাতে নিলেন তার হাতের মাছের গায়ে লাগল সাথে সাথে সেই মরা মাছ জ্যান্ত হয়ে উঠল তখন বুঝলেন অমরত্তের ঝর্ণা খুঁজে পেয়েছেন। ঝরনা দেখতে ভিন্ন কিছু নয় একদম স্বাভাবিক অতিপ্রাকৃ। তিনি সেখান থেকে হাত দিয়ে পানি পান করলেন এবং ইলিয়াসকে দেখে তাকেও পানি পান করালেন। তখন দৈব জ্ঞানে তাদের জানানো হলো তাদের কিয়ামত আইও ।

 

তারা যেন এখন থেকে লোকজন লোকচক্ষুর আড়ালে থাক । আর জুলকারনাইন বাদশা পানি পান করতে পারবে না । পানি পান করার আগে খিজির আলাই সালাম এর নাম ছিল বালিয়া আর পানি পান করার পর তার নাম হলো খিজির আলাই সাল্লাম । এর পর তারা দুজন সেখান থেকে চলে গেলেন তাদের অবস্থান আর কেউ জানত না এরপর তাকে দেখা যায় হযরত মুসা আলাই সালাম এর সময় সে ঘটনা পবিত্র কুরআনের সূরা কাহাফে বর্ণিত আছে। সাথে উপস্থিত ছিলেন আর একজন নবী  ইউশা আলাই সাল্লাম তবে তখন তিনি নবী হননি আরেকটু পরে হন । সেই ঘটনাতেও মূসা আলাইহিস সাল্লাম এর উপস্থিতি টের পেয়েছিলেন যখন তার মরা মাছ হঠাৎ জ্যান্ত হয়ে ওঠে। যুলকারনাইনের কি হলো তিনি এক সপ্তাহ নয় বরং আরো কিছুদিন পর সেই গুহা আসে ঝরনা আবিষ্কার করেন । এরপর সাথে আনা পেয়ালাতে করে তিনি পানি পান করতে গেলেন কিন্তু পানি পান করতে পারলেন না । তাঁর মনে হলো আমি একা এই পৃথিবীতে বেঁচে থেকে কি হবে আমার স্ত্রী পুত্র-কন্যা সাথে যদি না বাচলাম তাহলে জীবনের অর্থ কি আমি বেঁচে থাকব আর আমার পরিবার আমার চোখের সামনে মারা যাবে হতে পারে না । আমরা সবাই একসঙ্গে পানি পান করব এই কথা ভেবে তিনি সেই ঝর্ণা থেকে পানি বরলেন  তার মশকে ।

মশক বলতে পানি রাখার এক ধরনের থলে বোঝানো হয় । এরপর নিজ দেশে যাত্রা শুরু করলেন অন্ধকার রাজ্যে পথ ফিরে পেতে অনেক কষ্ট হল যখন তীরে ফিরে এলেন তখন দেখলেন অনেকেই ফিরতে পারেননি , এত লম্বা সময় হয়তো খাদ্যের অভাবে অনেকে মারাও গেছে যারা আঁধারে পরিবেশ করেছিল । এরপর যারা বাকি আছে তার বাহিনী তাদের নিয়ে তিনি সমুদ্রপথে সরাসরি নিজের দেশে ফিরলেন । তার আগমনের খবর শুনে তাকে স্বাগতম জানাতে তার স্ত্রী পুত্র কন্যারা অপেক্ষা করছিল তোরঘরায় । মশক থেকে পুরো পানি একটি সুন্দর পেয়ালায় পরলেন এরপর এই পেয়ালা নিয়ে দ্রুত পায়ে এগিয়ে গেলেন পরিবারের দিকে । কিন্তু ঘরের দরজার চৌকাঠে হোঁচট খেলেন আর হাত থেকে ছিটকে পড়ে গেল তার পেয়ালা । আর উত্তপ্ত মেঝে শুষে নিল সমস্ত পানি তাকিয়ে রইলেন সেদিকে তার ভাগ্যে ছিল না আবে হায়াতের পানি । বন্ধুরা এই ইতিহাস আবেহায়াতের পানির কথা আমরা কোরআন এবং হাদীসে কোথাও খুঁজে পাই না সুতরাং এ গল্পটি আমরা বিশ্বাস করব না । কিন্তু খিজির আলাই সাল্লাম এখনো পর্যন্ত বেঁচে আছেন একথা সত্য আমরা পরের হাদিসটা আলোচনা করছি । আবার এই পানি পান করে যে তিনি জীবিত আছেন একথা সত্য নয় আল্লাহ তাকে দীর্ঘ জীবন দান করেছেন এটাই সত্য । কিন্তু তার মানে এটা নয় যে তিনি মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবেন না ।  প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে এই যে খিজির আলাইসলাম এখনো পর্যন্ত বেঁচে আছেন কেয়ামতের দিন প্রত্যেককেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে ।

 

এবার হাদিস কি বলে দেখা যাক । যেমন আহমদ গ্রন্থের এক হাদিস বলছে খিজির আলাই সালাম  এবং ইলিয়াস আলাই সালাম প্রতি বছর হজের সময় দেখা করেন এবং রমজান মাসেও দেখা করেন সারা রমজান তারা জেরুজালেমে কাটা । মুসলিম আলেম এবং মুহাদ্দিস আবু সূরা আল কবির আল-রাজী একটি বিশুদ্ধ বর্ণনামতে জীবনে দুইবার খিজির আলাই সালাম এর দেখা পেয়েছেন । একবার তরুন থাকতে আর একবার বৃদ্ধ বয়সে । তবে খিজিরের কোন পরিবর্তন লক্ষ্য করেননি সবচেয়ে চমকপ্রদ বর্ণনা দেখা যায় বাকি হাদিস গ্রন্থ থেকে আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু ওয়া সাল্লাম এর জানাজার সময় খিজির আলাই সালাম উপস্থিত হয়েছিলেন এবং আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু তাদের চিনতে পারেন । তিনি তাদেরকে সান্ত্বনা দিতে এসেছিলেন হাদীসটি এমন একজন শক্ত সামর্থ সুদর্শন সাদা শশুর লোক পেছন থেকে এগিয়ে আসেন সামনে । এরপর পবিত্র লাশের কাছে দাঁড়ালেন তাঁর চোখ থেকে অশ্রু গড়িয়ে পড়ছিল তিনি সাহাবিদের দিকে ফিরলেন এবং সান্ত্বনা বাণী শোনালেন । সাহাবীরা তাকে চিনতে পারেননি কিন্তু আবুবকর আর আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন ইনি খিজির । এই থেকে আমরা বুঝলাম আল্লাহ যাকে ইচ্ছা তাকে দীর্ঘ জীবন দিতে পারেন । কিন্তু মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। তাছাড়া আমরা যদি দেখি হযরত ঈসা আলাই সাল্লাম কিন্তু এখনো মরেনি তিনি সশরীরে জীবিত আছেন এবং তিনি সশরীরে আবার ফিরে আসবেন তারপর তিনি মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবেন । হযরত ইলিয়াস আলাই সাল্লাম যাকে জিব্রাইল আলাই সাল্লাম আল্লাহর আদেশে জান্নাত পরিভ্রমণের নিয়ে গেলে জান্নাতের অপরূপ সৌন্দর্য ও মহান আল্লাহর অপূর্ব নিদর্শন দেখে হযরত ইদ্রিস আলাইসাল্লাম জান্নাত থেকে আজ অব্দি আর বের হননি । এরপর হযরত ইলিয়াস আলাই সাল্লাম তিনি জমিনের মধ্যে পাহাড়ে আছেন । কিন্তু হযরত খিজির আলাই সালাম আবে হায়াতের পানি পান করে বেঁচে আছেন এটা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা আল্লাহ তাকে দীর্ঘ জীবন দান করেছেন । এই জন্য তিনি বেঁচে আছেন কিন্তু কেয়ামতের দিন তাকেও মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে । বন্ধুরা আপনাদের যদি খিজির আলাইহিস সালামকে নিয়ে আরো কিছু ইনফরমেশন থাকে তা অবশ্যই কমেন্টে জানাবেন । আজ তাহলে এ পর্যন্তই আপনারা ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন আল্লাহ হাফেজ ।

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button
Close